
সাঈদুল রহমান সাকিব : বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চলমান উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সম্প্রচার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে বেতার টেলিভিশন শিল্পী সংস্থা।
শনিবার বিকেল ৪টায় জামাল খানস্থ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংগঠনের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আব্দুল মান্নান রানার সভাপতিত্বে এবং সংগীত পরিচালক ফরিদ বঙ্গবাসীর পরিচালনায় সভায় বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে প্রচারিত বিভিন্ন অপপ্রচার, ভুয়া সংবাদ, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের শিল্পীদের শ্রেণীমান উন্নীতকরণ, শিল্পী তালিকা হালনাগাদকরণ, শিল্পীদের সম্মানি বৃদ্ধিকরণ এবং EFT-এর মাধ্যমে শিল্পীদের ব্যাংক হিসাবে সম্মানির অর্থ প্রেরণের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। একই সঙ্গে নতুন পাঁচতলা ভবন উদ্বোধন, নাটক ও সংগীতানুষ্ঠান আউটডোরে ধারণের জন্য স্বতন্ত্র ইউনিট গঠন এবং পৃথক অডিও স্টুডিও নির্মাণের উদ্যোগ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্প্রচার কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যেই কিছু ভুঁইফোড় ও নিবন্ধনহীন অনলাইন পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র ও এর কর্মকর্তাদের নিয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
বিশেষ করে কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মো. ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক সফির হোসেনকে জড়িয়ে প্রচারিত বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান সভায় উপস্থিত শিল্পীরা।
সভায় আরও অভিযোগ করা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে
চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে পলাতক কিছু গেস্ট প্রডিউসার,শিল্পী নামধারী কিছু ফ্যাসিস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিটিভি চট্টগ্রাম কে নিয়ে গুপ্ত ষড়যন্ত্র ও দেশবিরোধী কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দুষ্কৃতিকারীরা যোগাযোগমাধ্যমে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও এর স্বাভাবিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বা দেশবিরোধী তৎপরতার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এ সময় সম্প্রতি বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ এবং কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজারকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায়ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে মিথ্যা তথ্য প্রচার, গুজব ছড়ানো, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, হুমকি দেওয়া কিংবা দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ উপস্থাপন করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত।
বেতার টেলিভিশন শিল্পী সংস্থার পক্ষ থেকে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তদন্তাধীন ব্যক্তিদের কেন্দ্রের প্রবেশাধিকার সীমিত বা স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও শিল্পীবান্ধব কার্যক্রমের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এসব কার্যক্রমকে কোনো ধরনের অপপ্রচার, গুজব বা অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, চট্টগ্রাম জাসাসের সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ শিপন, সংগীত পরিচালক আলমগীর আলাউদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর জাসাস নেতা সৈয়দ জিয়াউদ্দিন, সংগীত পরিচালক ফজলুল কবির চৌধুরী, গীতিকার আবছার উদ্দিন অলি, গীতিকার আলম আশরাফ।
এছাড়া চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল রায়, নৃত্য পরিচালক তরুণ চক্রবর্তী, নৃত্য পরিচালক সেতু বিশ্বাস, সংগীত পরিচালক দিদারুল ইসলাম, সংগীতশিল্পী ইন্তেখাব আলম মান্না, সংগীতশিল্পী সুফিয়া বেগম সুমি, জাসাস নেতা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ভান্ডারী শিল্পী মোহাম্মদ রিপন, কণ্ঠশিল্পী বহ্নিশিখা রক্ষিত, সংগীতশিল্পী শ্যামলী পাল, উপস্থাপক ফারজানা আক্তার পুতুল, বাচিক শিল্পী নাহিদা আক্তার নাজু, কবি জাহেদ কায়সার, রাশেদ মুহাম্মদ, কবি মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, মোহাম্মদ হোসেন আলী, বিশিষ্ট তবলা বাদক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, সাহিত্যিক ফারজানা আজিম, ইফতেখার সাইমুন, কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আজিজ ও ফারুক মুনিরসহ বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।