
সাইদুল রহমান সাকিব : বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের স্পষ্ট আদেশ অমান্য এবং উপবিধি লঙ্ঘন করে গোপনে পরিচালনা পর্ষদের মাসিক সভা ডাকার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সমিতির সহ-সভাপতিকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে আয়োজিত এই সভার বিষয় জানতে গিয়ে দায়িত্বরতদের কথা বলতে চাইলে সচিব ও সভাপতি প্রথমে জানান মিটিং শেষ কথা বলবেন এরপর তিন ঘন্টা অপেক্ষা শেষ কথা বলতে চাইলে আবারো দুপুরে খাবার এর পর কথা বলবেন বলে খাওয়া শেষ দরজা জানালা বন্ধ করে সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে তড়িঘড়ি করে সিএনজি অটোরিকশায় পালিয়ে যান সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও সচিব শাখাওয়াৎ হোসেন।
বুধবার ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম রেলওয়ে ভবন (সিআরবি) প্রাঙ্গণে অবস্থিত সমিতির প্রধান কার্যালয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
সমিতির গঠনতন্ত্র ও উপ-আইন অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদে সরকারিভাবে চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং আটজন সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি নিয়ম মোতাবেক প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত চার কর্মকর্তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘সহ-সভাপতি’ পদে বর্তমানে দায়িত্বরত আছেন তরুণ কান্তি বালা। তবে অভিযোগ উঠেছে, রহস্যজনক কারণে গত কিছুদিন ধরে তাকে কোনো মিটিং বা সভার বিষয়ে বিন্দুমাত্র অবগত করা কিংবা কোন নোটিশ প্রদান করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে সহ-সভাপতি তরুণ কান্তি বালাকে না জানিয়েই সিআরবি কার্যালয়ে এক গোপন বৈঠকের আয়োজন করেন সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও সচিব শাখাওয়াৎ হোসেন।
উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, সচিব শাখাওয়াৎ হোসেন প্রথমে বলেন, "আমাদের ভেতরের মিটিং শেষ হলে আপনাদের সাথে কথা বলছি।" কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পর বৈঠক শেষ হওয়া মাত্রই ঘটে নাটকীয় ঘটনা। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে সভাপতি ও সচিব তড়িঘড়ি করে নিজেদের দপ্তরের সব দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন। এমনকি নিজেদের সরকারি ও ব্যক্তিগত গাড়ি কার্যালয় প্রাঙ্গণে ফেলেই সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে দ্রত স্থান ত্যাগ করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সহ-সভাপতি তরুণ কান্তি বালা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকারি উপ-আইন এবং রেলওয়ের মহাপরিচালক মহোদয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে পরিচালনা পর্ষদের প্রতিটি সভায় সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে আমাকে না জানিয়ে গোপনে একের পর এক মিটিং করা হচ্ছে। এমনকি আমার নাম কলম দিয়ে একটানে কেটে দেওয়া হয়েছে। যেখান আমার নামই কেটে দিয়েছে সচিব ও সভাপতি তাহলে সেই মিটিং এ নিজে থেকে উপস্থিত থাকা আমার জন্য অপমানজনক । তাছাড়া সরকারি আইন অমান্য করে এভাবে সমিতির কার্যক্রম চালানো চরম অনিয়ম।"ডিজি স্যার ছাড়া সচিব এটা কি ভাবে করেছে তা আমার বোধগম্য নয়।
এদিকে সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, ঋণদান সমবায় সমিতিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও আর্থিক অস্বচ্ছতা চলছে। মহাপরিচালকের নির্দেশ অমান্য করে এবং নির্বাচিত উপ-আইন তোয়াক্কা না করে এভাবে গোপনে মিটিং করা এবং সাংবাদিকদের দেখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ কর্মকর্তাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।।