সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই থাই সেনা আহত হওয়ার পর প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে থাইল্যান্ড। সোমবার (১০ নভেম্বর) দেশটির সরকার এই ঘোষণা দেয়। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া এই শান্তিচুক্তি ছিল জুলাই মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর স্থায়ী শান্তি নিশ্চিতে সফল প্রচেষ্টা। সেই সংঘাতে কমপক্ষে ৪৩ জন নিহত এবং দুই দেশে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
থাইল্যান্ডের রয়্যাল আর্মি জানায়, সিসাকেত প্রদেশে সীমান্তের কাছে বিস্ফোরণে এক সেনার পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আরেক সেনা বুকে আঘাত পান। সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আঙ্কাসাকুলকিয়াত জানান, ব্যাংকক শান্তিচুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ স্থগিত করছে। অক্টোবরের শেষ দিকে কুয়ালালামপুরে সই হওয়া এই যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী থাইল্যান্ডের হাতে আটক ১৮ কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দেয়ার কথা ছিল। থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম হুমকি কমে গেছে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।’
ঘটনা নিয়ে কম্বোডিয়া তাৎক্ষণিক মন্তব্য না করলেও এর আগে থাইল্যান্ডে কোন ধরনের ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখার অভিযোগকে অস্বীকার করে আসছে।তবে সোমবার কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘শান্তির প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে।’
জুলাইয়ে সংঘর্ষ শুরুর পর চীনের প্রতিনিধি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দুই দেশ ভারী অস্ত্র সরিয়ে নেয়া, সীমান্তে মাইন অপসারণ এবং আসিয়ান পর্যবেক্ষক দলের কাজের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে একমত হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, কম্বোডিয়া সীমান্ত থেকে ভারী অস্ত্রও সরিয়ে নেয়। জুলাই ২৯ থেকে যুদ্ধবিরতি সাধারণভাবে কার্যকর আছে। তবে দুই দেশই মাঝে মাঝে একে অপরকে অভিযোগ করে আসছে যে বিরতি ভঙ্গ হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশীর সীমান্তবিরোধের ইতিহাস শত বছরেরও বেশি পুরোনো। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘মূল ভূখণ্ড বিরোধের সমাধান ছাড়া স্থায়ী শান্তিচুক্তি এখনো অনিশ্চিত।’