
ভিয়েতনামে চলমান ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৫৫ জনে পৌঁছেছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন, এবং তাদের উদ্ধার করতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ থেকে দক্ষিণ-মধ্য ভিয়েতনামে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র এবং বহু ঐতিহাসিক স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় নাহা ট্রাং শহরের পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে, আর দা লাট পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশের উচ্চভূমিতে মারাত্মক ভূমিধস ঘটেছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় শনিবার (২২ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ছয়টি প্রদেশে কমপক্ষে ৫৫ জন নিহত হয়েছে এবং আরও ১৩ জনের সন্ধান চালানো হচ্ছে। পাহাড়ি ডাক লাক প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে দুই ডজনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার বন্যার পানি কিছুটা কমে যাওয়ার পর উদ্ধারকারীরা গাছ ও বাড়ির ছাদ থেকে মানুষ উদ্ধার করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বন্যার কারণে একাধিক মহাসড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন। প্রাথমিক হিসেবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভিয়েতনামে মোট ২৭৯ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছে। এই সময়ে দেশটিতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন এবং বিধ্বংসী হয়ে উঠছে।