হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়ে দিনের পর দিন ওঠানামা করছে তাপমাত্রা, বাড়ছে শীতের তীব্রতা। এতে ভোগান্তিতে পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে অবস্থান করছে। হিমালয় থেকে ঠান্ডা বাতাস নামতে না শুরু করলেও শীতের অনুভূতি স্পষ্টভাবে বেড়ে গেছে। সকালে তাপমাত্রা কমে আসায় দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যও হ্রাস পাচ্ছে।
এ অবস্থায় শীতজনিত রোগ বাড়তে শুরু করেছে। শিশুসহ বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনজনিত অ্যালার্জিতে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কার্তিকের শুরু থেকেই এ অঞ্চলে শীত নামতে শুরু করে, আর কার্তিকের শেষ দিকে শীতের তীব্রতা বেড়ে ওঠে। এখন রাত থেকে সকাল পর্যন্ত তাপমাত্রা দ্রুত কমে গিয়ে শীত আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় শীতের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। আগামী বছরগুলোতে এই পরিবর্তন আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ও বৃদ্ধরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় পার্থক্য শরীরে চাপ ফেলে। দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ এ সময় বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই সাবধানতার সঙ্গে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত এক সপ্তাহে শিশু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিনশ শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ২০-২৫ জনকে ভর্তি করতে হচ্ছে, বাকিদের ওষুধ ও পরামর্শ দিয়ে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩-১৪ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ২৯-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। শিগগিরই তাপমাত্রার আরও পরিবর্তন হতে পারে। ডিসেম্বরের শুরুতে পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, প্রতি বছর এ জেলায় শীতের তীব্রতা বেশি থাকে। তাই অসহায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
