
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে তাকবির আহমেদ (২২) হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার পেছনে অনলাইন জুয়া ও মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ-বিপিএম।
পিবিআই জানিয়েছে, নিহত তাকবির আহমেদ চাকরির উদ্দেশ্যে বিদেশ যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি বাসা থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজার পর ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনের একতলার পূর্ব পাশে তাকবিরের লাশ পড়ে আছে।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। একই দিন তাকবিরের বাবা নূর মোহাম্মদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি ২৭ নভেম্বর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পান। অভিযান চালিয়ে পিবিআই টিম প্রথমে সোনারগাঁয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মো. হারুন (৩৪) নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনী মোড় থেকে মো. রফিকুল (৩৮) কে গ্রেফতার করা হয়। পরে রফিকুলের দেখানো স্থানে তার বসতঘরের সিলিং থেকে নিহত তাকবিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মাদক সেবন ও অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে আসামিদের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। হত্যার পর তারা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকবিরের পিতার কাছে পুরাতন সিম কার্ড ব্যবহার করে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করে।
গত ২৮ নভেম্বর দুই আসামিকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূর মহসিনের আদালতে পাঠানো হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ আরও জানিয়েছেন, “খুনের মোটিভ, ব্যবহৃত উপকরণ এবং আসামিদের কর্মকৌশল আমরা নিশ্চিত করেছি। তবে মামলার সবদিক যাচাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”