
কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলতি মৌসুমের প্রথম যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া এবং কেয়ারি সিন্দাবাদ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রথম দিন তিনটি জাহাজে প্রায় ১ হাজার ২০০ পর্যটক দ্বীপের পথে যাত্রা করেন।
সকালের শুরু থেকেই ঘাট এলাকায় ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। নিরাপত্তা তল্লাশি, টিকিট যাচাই ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে যাত্রীদের জাহাজে তোলা হয়। যাত্রার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবেশবান্ধব পানির বোতল বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন অনুমোদিত জাহাজে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই টিকিট সংগ্রহ করতে হবে, যেখানে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে।
‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, ছয়টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকলেও যাত্রী সংখ্যা বিবেচনায় প্রথম দিন তিনটি জাহাজ ছাড়ে। জোয়ার–ভাটা ও নাব্যতা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিদিনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
টেকনাফ–সেন্টমার্টিন রুট বন্ধ থাকায় পর্যটকদের এখন কক্সবাজার থেকেই দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সমুদ্রপথে এবং দ্বীপে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ নজরদারি রয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২ দফা নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে দ্বীপে রাতে আলো জ্বালানো নিষেধ, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান ও বারবিকিউ নিষিদ্ধ, প্রবাল সংগ্রহ ও মোটরযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান।
গত নভেম্বর রাত্রিযাপন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেন্টমার্টিনে কোনো জাহাজ না গেলেও ডিসেম্বরের শুরুতেই আবার জমে উঠেছে পর্যটন মৌসুম।