চট্টগ্রামের চকবাজারের ইম্পেরিয়াল কমপ্লেক্সে একসময় বেশ জনপ্রিয় ছিল 'দ্য রুফটপ পিজ্জা লাউঞ্জ'। কিন্তু এর মালিক মোহাম্মদ শোয়াইব ও মিথুন আহমেদ দম্পতির বিরুদ্ধে একের পর এক ভয়াবহ অভিযোগ সামনে আসায় রেস্তোরাঁটি এখন প্রতারণা, নির্যাতন ও আর্থিক জালিয়াতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোহাম্মদ শোয়াইব দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে বাংলাদেশ নেভীর সাবেক অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষ, কর্মচারী ও ইনভেস্টরদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শোয়াইব নিজেকে নৌ-অফিসার পরিচয় দিয়ে একাধিক ইনভেস্টরের কাছ থেকে কোটি টাকা বিনিয়োগ করিয়েছেন। কিন্তু লভ্যাংশ হিসেবে তিনি বিনিয়োগকারীদের ভুয়া চেক দিয়েছেন এবং চুক্তি অনুযায়ী বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেওয়ার সময় পার হলেও তা আত্মসাৎ করেছেন। জানা যায়, এর আগেও রাঙ্গামাটিতে তার বিরুদ্ধে জায়গা-জমি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ছিল।
রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রান্না ঠিক না হলে স্টাফদের রোদে দাঁড় করানো বা অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে দাঁড় করিয়ে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক কর্মীরা। এছাড়া, চাকরি ছেড়ে দেওয়া বহু স্টাফের বেতন আটকে রাখা হয়েছে। বেতন চাইতে গেলে চুরির মামলা ও জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হতো। একজন সাবেক গ্রাফিক্স ডিজাইনার নিশ্চিত করেছেন যে, শোয়াইব ডিউ স্লিপের অজুহাত দিলেও আসলে কর্মীদের কোনো ডিউ স্লিপ দেওয়া হতো না। এমনকি, একজন সাবেক নারী কর্মীকে বেতন বাড়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধরে রাখার এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীরা মেয়রের ঘনিষ্ঠতার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না।
শোয়াইব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাতের ঘনিষ্ঠ বলে নিজেকে পরিচয় দিতেন এবং এই প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষ ও ইনভেস্টরদের ভয় দেখাতেন। তিনি মেয়র অফিসের সচিবের সামনে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা রক্ষা করেননি। এছাড়াও, তিনি রেস্তোরাঁর সামনের সরকারি রাস্তা দখল করে গাড়ি পার্ক করতেন এবং মেয়রের নাম বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাতেন। নেভী অফিসার হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ওয়াকি-টকি হাতে চলাফেরা করতেন। তবে ৫ আগস্টের পর বিশেষ বাহিনী কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হওয়ার পরই তার এই প্রতারণা ফাঁস হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভুয়া পরিচয়, প্রতারণা, নারী কর্মী হেনস্তা, কর্মচারী নির্যাতন এবং আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগগুলো নিয়ে মামলা হলেই তদন্ত শুরু হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একসময়কার জনপ্রিয় এই রেস্তোরাঁটি এখন চট্টগ্রামবাসীর কাছে নির্যাতন, প্রতারণা আর ভয়ের এক অন্ধকার গল্প।