ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে ইসরাইলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিভিন্ন স্থানে চালানো হামলায় দুই শিশুসহ সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরাইল দাবি করেছে, মিশর সীমান্তের কাছে দক্ষিণ রাফায় হামাসের হামলায় তাদের চার সেনা আহত হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরাইল রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তবে সেখানে দিয়ে শুধুমাত্র গাজার বাসিন্দারা বাইরে যেতে পারবেন, কোনো ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মিশর এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার পরিপন্থি ও একতরফা বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে আরও একজন ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ রেডক্রসের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছে হামাস।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, রাফাহ সীমান্তের কাছে তাদের বাহিনী অতর্কিত হামলার শিকার হয়, এবং এর জবাবেই পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরপর উত্তর গাজার জেইতুন এলাকায় গুলি চালিয়ে দুই ফিলিস্তিনি এবং দক্ষিণ আল-মাওয়াসি ক্যাম্পে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত হন। আল-মাওয়াসিতে লাগা আগুনে বেশ কয়েকটি তাঁবু পুড়ে যায়। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানায়, নিহতদের মধ্যে দুই শিশুর বয়স মাত্র আট ও ১০ বছর।
হামাস এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে মধ্যস্থতাকারী মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলি আগ্রাসন থামানোর আহ্বান জানিয়েছে। গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইল অন্তত ৫৯১ বার এ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, এতে ৩৬০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৯২২ জন আহত হয়েছেন।
