
চট্টগ্রাম, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ – মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে বিশাল যুব র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। র্যালিটি সকাল ৮টায় নগরের দুই নম্বর গেইট থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বহদ্দারহাট মোড়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মাধ্যমে শেষ হয়। এতে হাজার হাজার যুবক, শ্রমিক ও ছাত্রজনতা অংশ নেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ৫৪ বছরেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “ভারতের প্রদত্ত গল্প আমাদের ইতিহাসের মূল ধারাকে বিকৃত করেছে। মহান বিজয় দিবস আমাদের প্রকৃত ইতিহাস জানতে এবং তার শিক্ষাকে যুগে যুগে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।”
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাড়ে ৭ কোটি মানুষ শ্রমিক, ছাত্র ও যুব সমাজ হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ পায়নি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ সেই স্বাদ শুরু করতে পেরেছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হয়েছেন রংপুরের আবু সাইদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমদ শান্ত, মোহাম্মদ ফারুকসহ শত শত ছাত্র-জনতা। তাঁদের রক্তদানের মাধ্যমেই ভারতীয় বয়ান, হেজিমনি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুবসমাজ রুখে দাঁড়াতে পেরেছে।
র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুব বিভাগ চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি ও নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী। আলোচনায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও নগর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আরও বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের নাগরিকরা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। একই চিত্র ফিলিস্তিন ও কাশ্মিরেও দেখা যায়। এসব উদাহরণ আমাদের স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য বুঝিয়ে দেয়। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ এবং পরবর্তী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ব্যর্থতা তুলে ধরেন। ১৯৭১ সালের নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক ক্ষমতার হস্তান্তর না হওয়া, গণহত্যা, এবং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন কালো অধ্যায়ের ইতিহাস উদ্ভাসিত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “জাতির একতা রক্ষা করতে, স্বাধীনতার চেতনা প্রসারিত করতে আমাদের যুবসমাজকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের মাহাত্ম্য উদযাপন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী।