কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর একটি মূর্তি ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে থাইল্যান্ডের সেনাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং এটি বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূর্তিটি কম্বোডিয়ার প্রেহ ভিহের প্রদেশের ভেতরে অবস্থিত। প্রদেশটির মুখপাত্র লিম চানপানহা জানান, এটি একটি বিষ্ণু মূর্তি, যা ২০১৪ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় ৩২৮ ফুট ভেতরে অবস্থিত।
জানা গেছে, গত সোমবার থাইল্যান্ডের সেনারা মূর্তিটি ভেঙে ফেলে। এলাকাটি মূলত হিন্দু অধ্যুষিত বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে নতুন করে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্তবর্তী সিসাকেত ও সুরিন প্রদেশে সংঘর্ষ হয়েছে। থাই গণমাধ্যমের দাবি, প্রথমে কম্বোডিয়া বিএম-২১ রকেট হামলা চালায়, যার জবাবে থাই সেনারা কামান, ট্যাংক ও ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা আক্রমণ চালায়।
সংঘর্ষে সিসাকেত প্রদেশে অন্তত এক থাই সেনা আহত হয়েছেন। থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কম্বোডিয়ার ১৯টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ ডিসেম্বর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন এবং কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।