শেষের পথে ২০২৫, আর এই বছরটি বিশ্ব ফুটবলে রেখে যাচ্ছে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। ক্লাব ফুটবল থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন—চমক, রেকর্ড আর ইতিহাসের মিশেলে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে বছরটি।
ইউরোপে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। মেসি, নেইমার ও এমবাপে ছাড়াই তরুণ দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ইতিহাস গড়েছে ফরাসি ক্লাবটি। ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার ইউরোপ সেরা হয় পিএসজি। কোচ লুইস এনরিকে ভিন্ন দুই ক্লাবের সঙ্গে ট্রেবল জয়ের কীর্তিও গড়েন।
ইউরোপা লিগে ১৭ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়েছে টটেনহাম হটস্পার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে শিরোপা জিতে ইউরোপিয়ান মঞ্চে ফেরে স্পাররা, যদিও ট্রফির পরই কোচ পোস্তেকোগলুর বিদায় আলোচনার জন্ম দেয়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলোচনায় ছিল পর্তুগাল। নেশনস লিগ জয়ের পাশাপাশি যুব পর্যায়েও শিরোপা ঘরে তোলে তারা। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবার লাল কার্ড দেখেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অন্যদিকে ইতালি টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন হারানোর শঙ্কায় পড়েছে।
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ড বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোল করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। পাশাপাশি কুরাসাও, কেপ ভার্দে ও হাইতির মতো ছোট দেশগুলো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসি শিরোপা জিতে নিজেদের আধিপত্য দেখিয়েছে। ব্যক্তিগত সাফল্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন উসমান দেম্বেলে। ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা জিতে ২০২৫ সালকে পুরোপুরি নিজের করে নিয়েছেন পিএসজি ফরোয়ার্ড।
রিয়াল মাদ্রিদে কিলিয়ান এমবাপে এক পঞ্জিকা বছরে সর্বোচ্চ গোল করে ছুঁয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড। আর বছরের শেষদিকে ইন্টার মায়ামিকে এমএলএস কাপ জিতিয়ে আমেরিকায় নিজের অপূর্ণতা ঘুচিয়েছেন লিওনেল মেসি।
সব মিলিয়ে চমক, সাফল্য ও বিতর্কে ভরা এক বছর—বিশ্ব ফুটবলে ২০২৫ হয়ে থাকবে স্মরণীয়।