
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের দ্বিতীয় দিন আজ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশায় আবেদন জমা দিচ্ছেন।
গত ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আপিল কার্যক্রম চলবে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রথম দিনে সারাদেশে মোট ৪২টি আবেদন জমা পড়েছে। ছোটখাটো তথ্যের ভুল বা অসংগতি থাকলে প্রার্থীদের সেগুলো সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। জমা পড়া আপিলগুলোর শুনানি ও নিষ্পত্তি করা হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। এরপর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় পাবেন প্রার্থীরা।
গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে সারাদেশের ৩০০ আসনে মোট ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৮৪২ জনে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মূলত ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি, দাফতরিক নথিপত্রের ঘাটতি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ভোটারদের স্বাক্ষরে গরমিলের কারণেই অধিকাংশ মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ঢাকার অঞ্চল থেকে সর্বোচ্চ ১৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া ফরিদপুর থেকে ৭টি, রাজশাহী ও কুমিল্লা থেকে ৫টি করে এবং চট্টগ্রাম থেকে ২টি আবেদন জমা পড়েছে। সিলেট অঞ্চলে এখন পর্যন্ত কোনো আপিল জমা না পড়লেও কুমিল্লায় এক বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিল করার খবর পাওয়া গেছে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।