
ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
সংস্থাটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে দেশজুড়ে টানা চার দিন ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় সঠিক তথ্য যাচাই ও সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংস্থাটি সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
অন্যদিকে, এই বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান সরকার। দেশটির সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম আজিজি জানান, বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি চলমান এই পরিস্থিতিকে ‘ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, নিহতদের অধিকাংশই বিদেশি গোষ্ঠীর হামলায় মারা গেছেন এবং বর্তমানে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানি রিয়ালের রেকর্ড পতনের পর থেকে এই অস্থিরতা শুরু হয়। মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্যপণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এলেও পরবর্তীতে তা রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি হাজার হাজার সরকার সমর্থকও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভকারীদের নিন্দা জানান।