
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ৪.২ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল ডিমোনার কাছাকাছি এলাকায়।
এই কম্পনের ফলে লোহিত সাগর ও দক্ষিণ নেগেভ অঞ্চলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা জারি করে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড। তবে দেশটির জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম (এমডিএ) নিশ্চিত করেছে যে, এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পৃথিবীর ইতিহাসে ভূমিকম্প একটি নিয়মিত কিন্তু ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও প্রদেশে, যা ভালদিভিয়া ভূমিকম্প নামে পরিচিত। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৯.৫ এবং এটি প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। এই দুর্যোগে ১ হাজার ৬৫৫ জন নিহত এবং কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এরপর ১৯৬৪ সালে আলাস্কায় ৯.২ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে সুনামিসহ ২৩০ কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর সুমাত্রা দ্বীপে ৯.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও তার ফলে সৃষ্ট ‘বক্সিং ডে’ সুনামিতে ১৪টি দেশের প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান।
প্রাণহানির দিক থেকে বিচার করলে ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি ঘটেছিল ১৫৫৬ সালে চীনের শানসি প্রদেশে, যেখানে প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা যান। এছাড়া ১৯৭৬ সালে চীনের তাংশানে ২ লাখ ৫৫ হাজার, ১১৩৮ সালে সিরিয়ার আলেপ্পোতে ২ লাখ ৩০ হাজার এবং ১৯২০ সালে চীনের হাইয়ুহানে ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে ইরান, তাইওয়ান, আর্মেনিয়া, জাপান, তুর্কমেনিস্তান এবং ইতালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যা মানব ইতিহাসের বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।