
আফকন ফাইনালের নাটকীয় পরাজয়ের পর প্রথমবার মুখ খুললেন সেই ম্যাচের শেষ সময়ে পেনাল্টি মিস করা মরোক্কোর তারকা ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার আত্মা কাঁদছে।’ একই সঙ্গে বিতর্কিত ওয়াক-আউটের ঘটনায় সেনেগালের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন।
রোববার রাবাতের প্রিন্স মুলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে পাপে গুইয়ের একমাত্র গোলে সেনেগাল ১–০ ব্যবধানে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতে নেয়। তবে ম্যাচের ১১৪তম মিনিটে ব্রাহিমের ‘প্যানেকা’ পেনাল্টি এদুয়ার্দ মেন্ডির হাতে ধরা পড়া এবং তার আগে সেনেগালের দলীয় ওয়াক-আউট—পুরো ফাইনালকে কলঙ্কিত করেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তায় ব্রাহিম লিখেছেন, ‘এই শিরোপার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কাল আমি ব্যর্থ হয়েছি এবং এর পূর্ণ দায় নিচ্ছি। হৃদয়ের গভীর থেকে ক্ষমা চাইছি। এই ক্ষত সহজে শুকোবে না—তবু আমি এগিয়ে যাব, মরক্কোর মানুষের জন্য।’
আফকনে সাত ম্যাচে পাঁচ গোল করা রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন।
ফাইনালের শেষদিকে মরক্কোর পক্ষে বিতর্কিত পেনাল্টি দেওয়ার পর প্রতিবাদে সেনেগাল প্রায় ১৪ মিনিট মাঠ ছাড়ে। পরে অধিনায়ক সাদিও মানের হস্তক্ষেপে তারা ফিরে আসে। এই ঘটনায় কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) ইতোমধ্যে সেনেগালের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দৃশ্যগুলোকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
এর মধ্যেই মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন জানিয়ে দিয়েছে, তারা সিএএফ ও ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক আইনি অভিযোগ করবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সেনেগালের ওয়াক-আউট ম্যাচের স্বাভাবিক প্রবাহ ও খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থায় গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। পেনাল্টি ছিল বৈধ—বিশেষজ্ঞরাও তা স্বীকার করেছেন।’
টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিলেও আফকন শেষ হয়েছে তিক্ততা ও বিতর্কে। মরক্কো কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই সেনেগালের আচরণকে “লজ্জাজনক” বলেছেন। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কী হয়—তা এখন দেখার বিষয়, তবে এই ফাইনাল আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে দীর্ঘদিন আলোচিত হবে।