
বিশ্ব ইতিহাসের রেকর্ডভাঙা উষ্ণ বছরগুলোর তালিকায় শীর্ষ চারে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে ২০২৬ সাল। কানাডার জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা 'এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ'-এর সাম্প্রতিক এক পূর্বাভাসে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছরটি ইতিহাসের অন্যতম উত্তপ্ত বছর হওয়া এখন প্রায় নিশ্চিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের (১৮৫০-১৯০০ সাল) তুলনায় ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১.৩৫ থেকে ১.৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। প্রায় ১২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে, তাপমাত্রা জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সীমা হিসেবে পরিচিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে অতিক্রম করে যাবে। উল্লেখ্য, টানা ১৩ বছরের মতো বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন সময়ের তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকতে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের পেছনে মূল দায়ী হচ্ছে কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণ। তবে গত কয়েক বছরের চরম তাপমাত্রার পেছনে ২০২৩-২৪ সালের শক্তিশালী প্রাকৃতিক আবহাওয়া পরিস্থিতি ‘এল নিনো’র বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রির নিচে এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা রয়েছে। যদিও কোনো একটি বছরে এই সীমা অতিক্রম করাকে চুক্তিভঙ্গ বলা হয় না, তবুও বিজ্ঞানীরা এই ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা 'বার্কলে আর্থ'ও এনভায়রনমেন্ট কানাডার এই পূর্বাভাসের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তাপমাত্রা এভাবে বাড়তে থাকলে বিশ্বজুড়ে দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার এবং তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর।