🔳 মামলা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা গোপন রেখে কর্ণফুলী গ্যাসে পদোন্নতি
🔳 কেজিডিসিএলে পদোন্নতির নেপথ্যে মামলা ও রাজনৈতিক পরিচয়?
🔳 বয়সসীমা ও মামলা উপেক্ষা করে কর্ণফুলী গ্যাসে পদোন্নতির অভিযোগ
চট্টগ্রামের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে (কেজিডিসিএল) সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া কয়েকটি পদোন্নতি নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ কার্যক্রমে যুক্ত আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, হত্যা মামলার আসামি এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে উপব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
যাদের পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তারা হলেন মো. ফারুক আহমদ, সৈয়দ মোরশেদ উল্লাহ ও কাউছার নুর লিটন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় তাঁদের নাম রয়েছে। এসব তথ্য গোপন রেখেই পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
মো. ফারুক আহমদ বর্তমানে উপব্যবস্থাপক পদে কর্মরত। এর আগে তিনি সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) ছিলেন। রাঙ্গুনিয়া থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তিনি আসামি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলায় তিনি জামিনও নেননি। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে থাকার সময় তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক পদে সক্রিয় থাকা নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া চাকরিতে প্রবেশের সময় মো. ফারুক আহমদের বয়সসীমা অতিক্রম করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বয়সসীমা পার হওয়ার পর তিনি পিতার নামে দাখিল করা মুক্তিযোদ্ধা সনদের সুবিধা নেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় যাচাই শেষে সনদটি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করলেও সে সময় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে সহকারী প্রকৌশলী (কারিগরি) সৈয়দ মোরশেদ উল্লাহর বিরুদ্ধেও। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ কোতোয়ালি, পাঁচলাইশ ও পটিয়া থানায় দায়ের করা মোট তিনটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে। চাকরিতে প্রবেশের সময় বয়সসীমা অতিক্রম করার বিষয়টি গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
অন্যদিকে, গত ১ ডিসেম্বর সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) থেকে উপব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পান কাউছার নুর লিটন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
কেজিডিসিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তার পদোন্নতির পেছনে প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সালাউদ্দিন মাসুদের ভূমিকা রয়েছে। পদোন্নতি কমিটির সদস্য–সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মামলার তথ্য, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, বয়স ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই না করে কিংবা গোপন রেখে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সার্ভিস রুলস ও সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা, বয়সসীমা অতিক্রম এবং রাজনৈতিক পদে সক্রিয় থাকা—এসবই পদোন্নতির ক্ষেত্রে অযোগ্যতার অন্তর্ভুক্ত।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও পদোন্নতি কমিটির সদস্য–সচিব সালাউদ্দিন মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।