বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:বান্দরবানে পাহাড়িঢল ও অতিভারী বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে লামা-আলীকদম উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি এই দুই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের কারণে রুমা-বগালেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় থানচি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমে ভ্রমণে পর্যটকদের সাময়িকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে লামা-আলীকদম সড়কের বিভিন্ন স্থানে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে রুমা উপজেলার পেঁপেবাগান এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় রুমা-বগালেক সড়কেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বান্দরবান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় ১৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কুহালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মংপু মারমা ও টংকাবতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মায়ং ম্রো প্রদীপ জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিজা আক্তার বিথী বলেন, রোববার থেকে চলমান ভারী বৃষ্টির কারণে রুমা-বগালেক সড়কের মধ্যবর্তী অংশে পাহাড়ধস হয়েছে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, আলীকদম-লামা সড়কের রেপারপাড়ি এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে সড়কের ওপর কোমর সমান পানি রয়েছে। কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী ও পর্যটক আটকা পড়েছেন। নৌকার মাধ্যমে তাদের পারাপারের চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, সড়কের পাশ দিয়ে মাতামুহুরী নদী প্রবাহিত হওয়ায় নদীর পানি বাড়লে সড়ক প্লাবিত হয়। এটি ড্রেনেজ সমস্যাজনিত নয়,বৃষ্টি কমলে সড়কের পানিও নেমে যাবে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা ১১ দশমিক ৮০ মিটার অতিক্রম করে ১১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৯ দশমিক ৭২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হলেও তা এখনো বিপদসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটারের নিচে রয়েছে।
অপরদিকে, সাঙ্গু নদীর উজানে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় থানচি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের সাময়িকভাবে সতর্ক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, মারামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। আজ সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদসীমা ১১.৮ অতিক্রম করে ১১.৯৪ লেভেলে প্রভাহিত হচ্ছে।অপরদিকে সাঙ্গু নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে ৯.৭২ লেভেলে প্রবাহিত হচ্ছে।তবে বিপদসীমা ১৪.৮০ অতিক্রম করেনি।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, হেডম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ২২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।