আদালতের জব্দের নির্দেশের এক বছর পরও সড়কে বহাল এনা পরিবহন
নিজস্ব প্রতিবেদক;
আদালতের জব্দের নির্দেশের এক বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কে বহাল তবিয়তে চলছে খন্দকার এনায়েত উল্লাহর মালিকানাধীন ‘এনা পরিবহন’। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৭৯টি বাস জব্দ করে বিআরটিসির জিম্মায় দেয়ার কথা থাকলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত জব্দ করতে পেরেছে মাত্র ৫টি বাস। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে গতি আনতে তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে।
এরপর গত বছরের মে মাসে আদালত এনা পরিবহনের ১৭৯টি বাস জব্দের নির্দেশ দেন। আদেশে বলা হয়, পুলিশ বাসগুলো জব্দ করে বিআরটিসির কাছে হস্তান্তর করবে এবং বিআরটিসি সেগুলো পরিচালনা করবে।
তবে এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও অধিকাংশ বাস এখনো জব্দ হয়নি। বরং সেগুলো দিয়েই পরিবহনটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এনা পরিবহনের ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে, জব্দের তালিকায় থাকা বাসগুলো এখনও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। যদিও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, তবে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও কক্সবাজার রুটে নিয়মিত চলছে এসব বাস।
চালক ও শ্রমিকরা বলছেন, জব্দের আদেশের পর থেকে তারা নানা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছেন। এক শ্রমিক বলেন, এখন খুব অল্প টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এতে কোম্পানির বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। একটি বাস চালাতে চালক, স্টাফ ও সুপারভাইজারসহ অনেক খরচ হয়। গাড়ির মালিকদের হয়তো খুব বেশি সমস্যা হয় না, কিন্তু শ্রমিকদের জীবিকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আর এনা পরিবহনের কর্মকর্তাদের দাবি, পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে মালিক সমিতির অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই। বিআরটিসির কাছে বাস হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে রিটও করেছেন। এনা ট্রান্সপোর্টের এজিএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এসব বাস ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছে। যদি ধারাবাহিকভাবে বাসগুলো আটক করা হয়, তাহলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কোম্পানির জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পুলিশের হলেও ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বাসের অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বেশিরভাগ বাসই এখন ঢাকার বাইরে চলাচল করছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বলেন, বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজধানীতে থাকে না, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করে। চলন্ত অবস্থায় প্রতিটি বাসের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করা তাৎক্ষণিকভাবে সবসময় সম্ভব হয় না। তবে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বাস জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুদকের আইনজীবী বলছেন, বাসগুলো জব্দে গতি আনতে আবারও আদালতের দ্বারস্ত হবেন তারা। দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর খাদেমুল হক বলেন, অনেক সময় পার হয়ে গেছে। তাই কমিশনের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হবে, যাতে আদালত পুলিশকে আবারও নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য স্মরণ করিয়ে দেন।
এদিকে, খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে অনৈতিক সুবিধা দিতে বাস জব্দে গাফিলতির অভিযোগ তুলে গত নভেম্বরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পক্ষ থেকে দুদকে একটি স্মারকলিপিও দেয়া হয়।