চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানাধীন মনছুরাবাদ ফজু সওদাগর ভান্ডারী বাড়ি এলাকায় ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তাল স্থানীয়রা। ঘটনার বিচার ও মূল আসামীদের ফাসির দাবিতে আজ এলাকাবাসী মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টায়* মনছুরাবাদ এলাকার বাসিন্দা *আবু সিদ্দিক ওরফে ভান্ডারী (৬০) কে ব্যাটারি চুরির বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে তিন চার দিন যাবত নির্যাতন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, শেখ আহাম্মদ ওরফে *রুবেল (৩৫)* ও তার সহযোগী *সাইফুল (২৮)* তাকে অন্ডকোষে লোহার রিং দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী একজনের ভাষ্য, _"আমি রুবেলকে বাপ ডেকে বললাম বাপ, মুরুব্বি মানুষটাকে আর মারিস না, মরে যাবে। তারপরও সে মাইর থামায়নি। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ পাশের ট্রাক গ্যারেজে নিয়ে রাখা হয়।"_
সারারাত বিষয়টি জানাজানি হয়নি। সকালে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী গিয়ে গ্যারেজের একটি গাড়ির ওপর আবু সিদ্দিকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
অভিযোগের তীর কার দিকে
এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, রুবেল ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাদক, ছিনতাই, চুরি, ইট-বালির ব্যবসা ও গ্যারেজ নিয়ন্ত্রণ সবকিছুই তার একক দখলে। নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ।
তবে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক* জানান, _"সে বিএনপির কেউ নয়। এমপির পাশে গিয়ে যে কেউ ছবি তুলতে পারে, তাই বলে সে অনুসারী হবে না। সন্ত্রাসীর পরিচয় সে একজন সন্ত্রাসী।"_
নিহতের ছেলে আসলাম বলেন, _"আমার পিতার মূল হত্যাকারী তাজুর ছেলে রুবেল এবং ডাইল বাড়ির সাইফুল। যাকে তাকে আসামী বানিয়ে মূল রহস্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারাও অপরাধী। আমি মূল আসামীদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।"_
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রুবেলের বাবা তাজ মোহাম্মদ ওরফে তাজু পিডিবির সাবেক গাড়ি চালক। কিন্তু বর্তমানে তার পরিবারের শত কোটি টাকার সম্পদ ও প্রভাবের কারণে রুবেল এত দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এ ঘটনায় রুবেলের চাচা কামাল এর জড়িত থাকার সন্দেহও করছেন অনেকে।
ডবলমুরিং থানার ওসি শাহীনুর রহমান জানান, _"এটি সুষ্ঠু তদন্ত হবে। আমরা আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টায় আছি।"_
পুলিশের পশ্চিম জোনের ডিসি বলেন, _"ঘটনায় একটি হত্যা মামলা নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ছয়জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।"_
হেফাজতে নেওয়া হয়েছে গ্যারেজ মালিক *মিজান* ও আনুমানিক ১৫ বছর বয়সী আরেক প্রত্যক্ষদর্শীকে।
*মানববন্ধনে যা বললেন এলাকাবাসী*
আজকের মানবন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এলাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার অবৈধ গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। এগুলোই এখন মাদক সেবন, চুরি ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। যারা এর প্রতিবাদ করে তারাই টার্গেট হচ্ছে।
মানবন্ধন শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন।