এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে শুরু নিবিড় প্রস্তুতি
স্পোর্টস ডেস্ক:
বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলে নতুন উদ্দীপনা ও অভিজ্ঞতার ছোঁয়া নিয়ে প্রধান কোচের দায়িত্বে ফিরেছেন সাবেক অধিনায়ক আব্দুল জলিল। প্রায় আড়াই বছরের ব্যবধান শেষে জাতীয় দলের ডাগআউটে ফিরে পুরুষ ও নারী—উভয় দলের সমন্বিত প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। লক্ষ্য আগামী এশিয়ান গেমস, আর সেটিকে সামনে রেখেই বাংলাদেশ কাবাডি স্টেডিয়ামে চলছে খেলোয়াড়দের নিবিড় অনুশীলন।
রবিবার বিকেলে কাবাডি স্টেডিয়ামে অনুশীলনের এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশ দেখা যায়। ম্যাটের ওপর নারী কাবাডি দলের ১৬ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে কৌশলগত ক্লাসে বসেন আব্দুল জলিল। রেইড, ডিফেন্স, চেইন ট্যাকল, কর্নার প্লে থেকে শুরু করে ম্যাচের বাস্তবমুখী কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তা তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন তিনি। এই সার্বিক তদারকিতে তাঁর সঙ্গে সহকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোচ বাদশা মিয়া, আরদুজ্জামান এবং শাহনাজ পারভীন মালেকা। চার কোচের যৌথ পরিচালনায় অনুশীলনে পূর্ণ মনোযোগ দেন খেলোয়াড়রা।
সুদীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলের দায়িত্বে ফিরে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুল জলিল। এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কাবাডি প্রতিযোগিতায় জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি, যেখানে তাঁর পথপ্রদর্শনেই বাংলাদেশ শিরোপা জয়ের সাফল্য পায়। এরপর সাময়িক বিরতি শেষে আবারও পরিচিত আঙিনায় ফেরা।
দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে আব্দুল জলিল বলেন, “প্রিয় কাবাডি প্রাঙ্গণে আবারও কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব ইসরাইল হাওলাদারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছি। সামনে এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চ, তাই নারী ও পুরুষ উভয় দলকেই সমানভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমাদের খেলোয়াড়দের মাঝে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে; সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমে আমরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে আশাবাদী।”
আব্দুল জলিলের কাবাডি যাত্রার সূচনা হয়েছিল পারিবারিক আবহ থেকেই। ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই বাবা খলিল উদ্দিন মিয়ার হাত ধরে কাবাডির প্রাথমিক পাঠ নেন তিনি। পরবর্তীতে নিজস্ব মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে হয়ে ওঠেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম সেরা কাবাডি তারকা।
খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় ১৯৯৫ সালের মাদ্রাজ (বর্তমানে চেন্নাই) দক্ষিণ এশীয় গেমস। তাঁর অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ কাবাডি দল রৌপ্যপদক জয় করে ইতিহাস গড়ে। ওই ঐতিহাসিক আসরটির মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক খেলা থেকে অধিনায়ক হিসেবে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানেন তিনি।
খেলোয়াড় ও সফল কোচ—দুই রূপেই জাতীয় কাবাডিতে আব্দুল জলিলের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর এই অভিজ্ঞ প্রত্যাবর্তনে দল ও কাবাডি বোদ্ধাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অভিজ্ঞ এই কোচের অধীনে আসন্ন আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা আরও আক্রমণাত্মক ও প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স উপহার দেবে।