ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে চেয়ার আঁকড়ে আছেন নুরুল ইসলাম!

সাঈদুল রহমান সাকিব :সরকারি আদেশ, চেয়ারম্যানের কড়া নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের চেয়ারটি যেন ‘স্থায়ী আমানত’ বানিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম। দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগে পদ থেকে অপসারণের পরও রহস্যজনক শক্তিতে বিএডিসি কার্যালয়ে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। শুধু হাজিরাই নয়, বহাল তবিয়তে তদারকি করছেন প্রায় সাড়ে ছয়শ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের সব ‘ফাটাফাটি’ কাজকারবার!

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কৃষি উন্নয়ন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৬৫০ কোটি টাকার একটি বিশেষ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিএডিসি। কিন্তু শুরুতেই সেই সুপেয় পানি আর কৃষির উন্নয়নে পড়েছে দুর্নীতির কালো থাবা। সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট প্রকল্পটির নামকাওয়াস্তে ও দায়সারা কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

থলের বিড়ালটি বের হতে শুরু করলে অতিসম্প্রতি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে উক্ত পদ থেকে নুরুল ইসলামকে অপসারিত করে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। খোদ চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রকৌশলী তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরিষ্কার নির্দেশ দিলেও তিনি তা কানেই তোলেননি। দায়িত্ব তো ছাড়েনইনি, উল্টো কার্যালয়ে বসেই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের প্রায় ২৫০টি সেচ কাজের প্রায় শত কোটি টাকার বিশাল দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে চেয়ারম্যানের আদেশ অমান্য করা হচ্ছে, সেখানে তো পরিষ্কার যে এর পেছনে বড় কোনো অদৃশ্য হাত আছে। অপসারণের পরও একজন সাবেক কর্মকর্তা কীভাবে শত কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঢুকে বসে থাকেন তা ভাবলেই অবাক হতে হয়।”
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঠিক কার শক্তির জোরে অপসারণের পরও চেয়ার আঁকড়ে আছেন নুরুল?

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে চেয়ার আঁকড়ে আছেন নুরুল ইসলাম!

সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে চেয়ার আঁকড়ে আছেন নুরুল ইসলাম!

আপডেট সময় : ১১:০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাঈদুল রহমান সাকিব :সরকারি আদেশ, চেয়ারম্যানের কড়া নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের চেয়ারটি যেন ‘স্থায়ী আমানত’ বানিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম। দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগে পদ থেকে অপসারণের পরও রহস্যজনক শক্তিতে বিএডিসি কার্যালয়ে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। শুধু হাজিরাই নয়, বহাল তবিয়তে তদারকি করছেন প্রায় সাড়ে ছয়শ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের সব ‘ফাটাফাটি’ কাজকারবার!

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কৃষি উন্নয়ন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৬৫০ কোটি টাকার একটি বিশেষ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিএডিসি। কিন্তু শুরুতেই সেই সুপেয় পানি আর কৃষির উন্নয়নে পড়েছে দুর্নীতির কালো থাবা। সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট প্রকল্পটির নামকাওয়াস্তে ও দায়সারা কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

থলের বিড়ালটি বের হতে শুরু করলে অতিসম্প্রতি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে উক্ত পদ থেকে নুরুল ইসলামকে অপসারিত করে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। খোদ চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রকৌশলী তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরিষ্কার নির্দেশ দিলেও তিনি তা কানেই তোলেননি। দায়িত্ব তো ছাড়েনইনি, উল্টো কার্যালয়ে বসেই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের প্রায় ২৫০টি সেচ কাজের প্রায় শত কোটি টাকার বিশাল দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে চেয়ারম্যানের আদেশ অমান্য করা হচ্ছে, সেখানে তো পরিষ্কার যে এর পেছনে বড় কোনো অদৃশ্য হাত আছে। অপসারণের পরও একজন সাবেক কর্মকর্তা কীভাবে শত কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঢুকে বসে থাকেন তা ভাবলেই অবাক হতে হয়।”
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঠিক কার শক্তির জোরে অপসারণের পরও চেয়ার আঁকড়ে আছেন নুরুল?