ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে হাকার উচ্ছেদ অভিযানে সিডিএ, প্রতিশ্রুতি ভাঙ্গলে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারী

সাঈদুল রহমান সাকিব : ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসানোর কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। বিশেষ করে নিউ মার্কেট থেকে কোতোয়ালি পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে হকার ও অবৈধ দোকানের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এ জনদুর্ভোগ লাঘবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) ভবন সংলগ্ন এলাকা এবং চউক কর্তৃক পরিচালিত বিপণী বিতান (নিউ মার্কেট) সংলগ্ন ফুটপাত ও সড়ক হকার ও অবৈধ দোকানমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

রোববার সকালে হকারদের নিজ নিজ দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে না নেওয়ায় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক হকার প্লাস্টিক ও কাপড় দিয়ে মালামাল ঢেকে দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
পরে চউক চেয়ারম্যান বিপণী বিতান বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসানোর কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ, পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং যানজটের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে পুনরায় পরিদর্শনকালে দেখা যায় হকাররা আবার ও দোকান বসানোর চেষ্টা করছে,চউক চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় তাদের আবারও সরিয়ে দেওয়া হয়।
চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, “চউক ভবন সংলগ্ন এলাকা এবং বিপণী বিতান সংলগ্ন ফুটপাত ও সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। জনগণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এসব এলাকা দখলমুক্ত রাখা হবে।”
তিনি বলেন, “হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি মানবিক ও সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে চউক চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
চউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, “হকার নেতারা আগামীকাল থেকে এসব এলাকায় আর না বসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবস্থান করলে বিষয়টি সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে পুনরায় ফুটপাত বা সড়ক দখল করে বসলে চউকের ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ. এ. এম. হাবিবুর রহমান, মোহাং মনজুর হাসান, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন এবং সচিব নূর-ই-জান্নাত রুমিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

ট্যাগস :

সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন: চট্টগ্রাম রেলওয়ের সিটিআই (গ্রেড ১) জিনিয়া নাসরিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে হাকার উচ্ছেদ অভিযানে সিডিএ, প্রতিশ্রুতি ভাঙ্গলে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারী

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সাঈদুল রহমান সাকিব : ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসানোর কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। বিশেষ করে নিউ মার্কেট থেকে কোতোয়ালি পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে হকার ও অবৈধ দোকানের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এ জনদুর্ভোগ লাঘবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) ভবন সংলগ্ন এলাকা এবং চউক কর্তৃক পরিচালিত বিপণী বিতান (নিউ মার্কেট) সংলগ্ন ফুটপাত ও সড়ক হকার ও অবৈধ দোকানমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

রোববার সকালে হকারদের নিজ নিজ দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে না নেওয়ায় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক হকার প্লাস্টিক ও কাপড় দিয়ে মালামাল ঢেকে দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
পরে চউক চেয়ারম্যান বিপণী বিতান বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসানোর কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ, পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং যানজটের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে পুনরায় পরিদর্শনকালে দেখা যায় হকাররা আবার ও দোকান বসানোর চেষ্টা করছে,চউক চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় তাদের আবারও সরিয়ে দেওয়া হয়।
চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, “চউক ভবন সংলগ্ন এলাকা এবং বিপণী বিতান সংলগ্ন ফুটপাত ও সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। জনগণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এসব এলাকা দখলমুক্ত রাখা হবে।”
তিনি বলেন, “হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি মানবিক ও সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে চউক চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
চউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, “হকার নেতারা আগামীকাল থেকে এসব এলাকায় আর না বসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবস্থান করলে বিষয়টি সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে পুনরায় ফুটপাত বা সড়ক দখল করে বসলে চউকের ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ. এ. এম. হাবিবুর রহমান, মোহাং মনজুর হাসান, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন এবং সচিব নূর-ই-জান্নাত রুমিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা