ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রেলের স্টেনোগ্রাফার পদোন্নতি প্যানেল নিয়ে প্রশ্ন, বহিষ্কৃত প্রার্থীও তালিকায়

অভিযোগকারীদের দাবি, শর্টহ্যান্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পরীক্ষার প্রকৃত ফলাফলের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে তৈরি করা প্যানেল তালিকার সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার ব্যবহারে পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই—এমন কয়েকজনকেও উত্তীর্ণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

তবে শর্টহ্যান্ড পরীক্ষায় কেউ পাস করেননি কিংবা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ১৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা পরীক্ষার মূল খাতা, নম্বরপত্র বা চূড়ান্ত ফলাফলের নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন।

বহিষ্কৃত প্রার্থীর নাম প্যানেলে থাকার অভিযোগ

এ ঘটনায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে মোহাম্মদ শাহিন আলমের নাম। তিনি চট্টগ্রামের সিআরবিতে অবস্থিত ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার অফিসে কর্মরত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, পদোন্নতি পরীক্ষা চলাকালে শাহিন আলমকে পরীক্ষাকক্ষ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। অথচ পরবর্তী সময়ে প্রস্তুত করা ১৫ জনের প্যানেল তালিকায় তাঁর নাম রাখা হয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, পরীক্ষা চলাকালে কোনো প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়ে থাকলে এবং সেই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে প্রত্যাহার না করা হলে তাঁর নাম কীভাবে পদোন্নতির প্যানেলে স্থান পেল?

তবে শাহিন আলমকে বহিষ্কারের বিষয়ে কোনো আদেশ বা পরীক্ষাকক্ষের সংশ্লিষ্ট নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে বহিষ্কারের নথি এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রকাশ বা যাচাই করা হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শর্টহ্যান্ডের ফল নিয়েও প্রশ্ন

পদোন্নতিবঞ্চিতদের অভিযোগ, স্টেনোগ্রাফার পদের ক্ষেত্রে শর্টহ্যান্ড দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হলেও পরীক্ষার ফলাফল তৈরিতে সেটি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, শর্টহ্যান্ডে প্রয়োজনীয় মান অর্জন না করেও কয়েকজনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

এ ছাড়া কম্পিউটার পরিচালনায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই—এমন প্রার্থীরাও প্যানেলে স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, পরীক্ষার শর্টহ্যান্ড ও কম্পিউটার অংশের পৃথক নম্বর এবং মূল্যায়নপত্র প্রকাশ বা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।

‘যারা পাস করেছে, তাদেরই করা হয়েছে’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সিনিয়র পার্সোনেল অফিসার মোসাঃ আরফিন নাহার।

শর্টহ্যান্ড পরীক্ষায় পাস না করেও কীভাবে ১৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখানে কোনো দুর্নীতি হয় না। যারা পাস করেছে, তাদেরকেই করা হয়েছে। এখানে ২৫ জনের কোটা হয়েছে, কিন্তু আমরা ১৫ জনকেই উত্তীর্ণ করেছি।”

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় যারা যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাদের মধ্য থেকেই ১৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। ফলে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগকারীরা বলছেন, শুধু মৌখিক বক্তব্যে বিতর্কের অবসান হবে না। শর্টহ্যান্ড ও কম্পিউটার পরীক্ষার নম্বরপত্র, মূল মূল্যায়নপত্র, উপস্থিতি ও বহিষ্কারসংক্রান্ত নথি এবং চূড়ান্ত প্যানেল তৈরির প্রক্রিয়া যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

কমিটির আহ্বায়ককে পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুমের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তদন্ত না হলে দুদকে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

এদিকে পদোন্নতিবঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থী পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি, শর্টহ্যান্ড ও কম্পিউটার পরীক্ষার মূল খাতা, নম্বরপত্র, মূল্যায়নপত্র, পরীক্ষাকক্ষ থেকে কাউকে বহিষ্কার করা হয়ে থাকলে সেই সংক্রান্ত নথি এবং ১৫ জনের চূড়ান্ত প্যানেল তালিকা একসঙ্গে যাচাই করতে হবে।

তাঁরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রশ্নবিদ্ধ প্যানেল পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনে নামার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পরীক্ষার মূল নথিপত্র। সেগুলো যাচাই হলেই শর্টহ্যান্ড পরীক্ষায় কারা প্রকৃতপক্ষে উত্তীর্ণ হয়েছেন, কম্পিউটার দক্ষতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং বহিষ্কারের অভিযোগ থাকা প্রার্থীর নাম কীভাবে প্যানেলে এসেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃ বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলা ফাইনাল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

রেলের স্টেনোগ্রাফার পদোন্নতি প্যানেল নিয়ে প্রশ্ন, বহিষ্কৃত প্রার্থীও তালিকায়

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

অভিযোগকারীদের দাবি, শর্টহ্যান্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পরীক্ষার প্রকৃত ফলাফলের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে তৈরি করা প্যানেল তালিকার সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার ব্যবহারে পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই—এমন কয়েকজনকেও উত্তীর্ণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

তবে শর্টহ্যান্ড পরীক্ষায় কেউ পাস করেননি কিংবা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ১৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা পরীক্ষার মূল খাতা, নম্বরপত্র বা চূড়ান্ত ফলাফলের নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন।

বহিষ্কৃত প্রার্থীর নাম প্যানেলে থাকার অভিযোগ

এ ঘটনায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে মোহাম্মদ শাহিন আলমের নাম। তিনি চট্টগ্রামের সিআরবিতে অবস্থিত ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার অফিসে কর্মরত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, পদোন্নতি পরীক্ষা চলাকালে শাহিন আলমকে পরীক্ষাকক্ষ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। অথচ পরবর্তী সময়ে প্রস্তুত করা ১৫ জনের প্যানেল তালিকায় তাঁর নাম রাখা হয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, পরীক্ষা চলাকালে কোনো প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়ে থাকলে এবং সেই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে প্রত্যাহার না করা হলে তাঁর নাম কীভাবে পদোন্নতির প্যানেলে স্থান পেল?

তবে শাহিন আলমকে বহিষ্কারের বিষয়ে কোনো আদেশ বা পরীক্ষাকক্ষের সংশ্লিষ্ট নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে বহিষ্কারের নথি এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রকাশ বা যাচাই করা হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শর্টহ্যান্ডের ফল নিয়েও প্রশ্ন

পদোন্নতিবঞ্চিতদের অভিযোগ, স্টেনোগ্রাফার পদের ক্ষেত্রে শর্টহ্যান্ড দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হলেও পরীক্ষার ফলাফল তৈরিতে সেটি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, শর্টহ্যান্ডে প্রয়োজনীয় মান অর্জন না করেও কয়েকজনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

এ ছাড়া কম্পিউটার পরিচালনায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই—এমন প্রার্থীরাও প্যানেলে স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, পরীক্ষার শর্টহ্যান্ড ও কম্পিউটার অংশের পৃথক নম্বর এবং মূল্যায়নপত্র প্রকাশ বা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।

‘যারা পাস করেছে, তাদেরই করা হয়েছে’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সিনিয়র পার্সোনেল অফিসার মোসাঃ আরফিন নাহার।

শর্টহ্যান্ড পরীক্ষায় পাস না করেও কীভাবে ১৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখানে কোনো দুর্নীতি হয় না। যারা পাস করেছে, তাদেরকেই করা হয়েছে। এখানে ২৫ জনের কোটা হয়েছে, কিন্তু আমরা ১৫ জনকেই উত্তীর্ণ করেছি।”

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় যারা যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাদের মধ্য থেকেই ১৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। ফলে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগকারীরা বলছেন, শুধু মৌখিক বক্তব্যে বিতর্কের অবসান হবে না। শর্টহ্যান্ড ও কম্পিউটার পরীক্ষার নম্বরপত্র, মূল মূল্যায়নপত্র, উপস্থিতি ও বহিষ্কারসংক্রান্ত নথি এবং চূড়ান্ত প্যানেল তৈরির প্রক্রিয়া যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

কমিটির আহ্বায়ককে পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুমের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তদন্ত না হলে দুদকে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

এদিকে পদোন্নতিবঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থী পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি, শর্টহ্যান্ড ও কম্পিউটার পরীক্ষার মূল খাতা, নম্বরপত্র, মূল্যায়নপত্র, পরীক্ষাকক্ষ থেকে কাউকে বহিষ্কার করা হয়ে থাকলে সেই সংক্রান্ত নথি এবং ১৫ জনের চূড়ান্ত প্যানেল তালিকা একসঙ্গে যাচাই করতে হবে।

তাঁরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রশ্নবিদ্ধ প্যানেল পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনে নামার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পরীক্ষার মূল নথিপত্র। সেগুলো যাচাই হলেই শর্টহ্যান্ড পরীক্ষায় কারা প্রকৃতপক্ষে উত্তীর্ণ হয়েছেন, কম্পিউটার দক্ষতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং বহিষ্কারের অভিযোগ থাকা প্রার্থীর নাম কীভাবে প্যানেলে এসেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।