ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন: চট্টগ্রাম রেলওয়ের সিটিআই (গ্রেড ১) জিনিয়া নাসরিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) দপ্তরের সিটিআই গ্রেড-১ জিনিয়া নাসরিনের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে তথ্য গোপন করে যোগদান এবং একই সঙ্গে পেশাদার আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিলের সদস্যপদ ও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র ও আইনি মতামতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রেল সূত্রে জানাযায়, জিনিয়া নাসরিন গত ১২/০৯/২০১১ তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়েতে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। এর পূর্বে তিনি ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন এবং আইনজীবী হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিন্তু সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি আইন পেশা ত্যাগ করার জন্য কোনো ইস্তফা দেননি এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। এমনকি তিনি চট্টগ্রাম জেলা বারের নিয়মিত ভোটার তালিকায় নাম রাখা এবং বার্ষিক চাঁদা প্রদানসহ সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি তথ্য গোপন করে সরকারি চাকরির পাশাপাশি আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

​আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগের (ফৌজদারি শাখা) তথ্য  অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ১৭-এর উপবিধি (১) এবং রেলওয়ের সার্ভিস কন্ডাক্ট রুলসের পরিপন্থী হওয়ায় জিনিয়া নাসরিনের এই আচরণ সরকারি শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার বহির্ভূত।

​এ বিষয়ে রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি এবং একাধিক আইনি পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এর আগে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একাধিকবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হলেও তা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখা এবং সমিতির কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ১৭-এর উপবিধি (১) পরিপন্থী।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের দপ্তরের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্তে জানা যায়, জিনিয়া নাসরিন রেলওয়েতে যোগদানের পরেও আইন পেশা অব্যাহত রাখেন এবং তথ্য গোপন করে নিজের চাকরি বহাল রাখেন। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীদের আইনি মতামতেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারেন না এবং তা সরকারি চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ অবস্থায়, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রতীয়মান সংস্থার মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এস/আর/এস

ট্যাগস :

সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন: চট্টগ্রাম রেলওয়ের সিটিআই (গ্রেড ১) জিনিয়া নাসরিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন: চট্টগ্রাম রেলওয়ের সিটিআই (গ্রেড ১) জিনিয়া নাসরিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

আপডেট সময় : ১০:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) দপ্তরের সিটিআই গ্রেড-১ জিনিয়া নাসরিনের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে তথ্য গোপন করে যোগদান এবং একই সঙ্গে পেশাদার আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিলের সদস্যপদ ও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র ও আইনি মতামতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রেল সূত্রে জানাযায়, জিনিয়া নাসরিন গত ১২/০৯/২০১১ তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়েতে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। এর পূর্বে তিনি ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন এবং আইনজীবী হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিন্তু সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি আইন পেশা ত্যাগ করার জন্য কোনো ইস্তফা দেননি এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। এমনকি তিনি চট্টগ্রাম জেলা বারের নিয়মিত ভোটার তালিকায় নাম রাখা এবং বার্ষিক চাঁদা প্রদানসহ সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি তথ্য গোপন করে সরকারি চাকরির পাশাপাশি আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

​আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগের (ফৌজদারি শাখা) তথ্য  অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ১৭-এর উপবিধি (১) এবং রেলওয়ের সার্ভিস কন্ডাক্ট রুলসের পরিপন্থী হওয়ায় জিনিয়া নাসরিনের এই আচরণ সরকারি শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার বহির্ভূত।

​এ বিষয়ে রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি এবং একাধিক আইনি পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এর আগে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একাধিকবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হলেও তা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখা এবং সমিতির কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ১৭-এর উপবিধি (১) পরিপন্থী।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের দপ্তরের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্তে জানা যায়, জিনিয়া নাসরিন রেলওয়েতে যোগদানের পরেও আইন পেশা অব্যাহত রাখেন এবং তথ্য গোপন করে নিজের চাকরি বহাল রাখেন। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীদের আইনি মতামতেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারেন না এবং তা সরকারি চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ অবস্থায়, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রতীয়মান সংস্থার মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এস/আর/এস