ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যে শওকত আলীর ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচার: ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা করল এনবিআর!

​যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর ২৫ মিলিয়ন ডলার (আড়াই কোটি ডলার) দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত ও জটিল হয়ে পড়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফেরত আনা না গেলেও বসে নেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পাচারকৃত ওই অর্থের সমপরিমাণ প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে শওকত আলীকে।

​আয়কর আইনের অপ্রদর্শিত বিদেশি সম্পদের কঠোর বিধান প্রয়োগ করে এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা আদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)। এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা সম্পদের সমমূল্যের অর্থ দেশের মাটিতেই শওকত আলীর কাছ থেকে আদায়ের আইনি পথ তৈরি হলো।

​১৫ মার্চের সেই আদেশ ও জরিমানার অঙ্ক
​এলটিইউ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে এই জরিমানার চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়। ওই দিনের ডলারের আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার অনুযায়ী জরিমানার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০৬ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এলটিইউর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আয়কর আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশি করদাতার ট্যাক্স রিটার্নে (আয়কর বিবরণী) অপ্রদর্শিত কোনো বিদেশি সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে এবং করদাতা যদি সেই সম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন, তবে ওই সম্পদের ন্যায্য বাজারমূল্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

​জরিমানার এই অর্থ যদি করদাতা স্বেচ্ছায় পরিশোধ না করেন, তবে দেশের মাটিতে থাকা তার অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি বা বাজেয়াপ্ত করে তা আদায়ের আইনি ক্ষমতা রয়েছে আয়কর কর্তৃপক্ষের।

​কর দিলেও জরিমানা বাকি!

​জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে থাকা এই অপ্রদর্শিত অর্থের বিপরীতে চলতি বছরের মে মাসে সরকারের কোষাগারে ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছেন শওকত আলী চৌধুরী। তবে কর পরিশোধ করলেও জরিমানার ৩০৭ কোটি টাকা তিনি এখনো পরিশোধ করেননি বলে জানিয়েছেন এলটিইউর কর্মকর্তারা। এই অর্থ আদায়ে এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে।

​কেন আটকে আছে পাচার হওয়া ২৫ মিলিয়ন ডলার?

​বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যুক্তরাজ্যে জব্দ বা শনাক্ত হওয়া শওকত আলীর ২৫ মিলিয়ন ডলার দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি পর্যায়ে জোর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে সেই চেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাজ্যের কঠোর আইনি মারপ্যাঁচে।

​যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) বাংলাদেশকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অর্থ ফেরত দেওয়ার আগে বাংলাদেশকে এটি প্রমাণ করতে হবে যে, এই অর্থটি কেবল বাংলাদেশের আইনেই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের নিজস্ব আইনেও অবৈধভাবে অর্জিত বা পাচারকৃত। এই আইনি জটিলতার কারণেই অর্থ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। আর এই সুযোগেই এনবিআর দেশের মাটিতে করদাতার সম্পদ লক্ষ্য করে জরিমানার এই বড় পদক্ষেপটি গ্রহণ করল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বান্দরবানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্যে শওকত আলীর ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচার: ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা করল এনবিআর!

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

​যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর ২৫ মিলিয়ন ডলার (আড়াই কোটি ডলার) দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত ও জটিল হয়ে পড়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফেরত আনা না গেলেও বসে নেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পাচারকৃত ওই অর্থের সমপরিমাণ প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে শওকত আলীকে।

​আয়কর আইনের অপ্রদর্শিত বিদেশি সম্পদের কঠোর বিধান প্রয়োগ করে এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা আদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)। এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা সম্পদের সমমূল্যের অর্থ দেশের মাটিতেই শওকত আলীর কাছ থেকে আদায়ের আইনি পথ তৈরি হলো।

​১৫ মার্চের সেই আদেশ ও জরিমানার অঙ্ক
​এলটিইউ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে এই জরিমানার চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়। ওই দিনের ডলারের আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার অনুযায়ী জরিমানার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০৬ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এলটিইউর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আয়কর আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশি করদাতার ট্যাক্স রিটার্নে (আয়কর বিবরণী) অপ্রদর্শিত কোনো বিদেশি সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে এবং করদাতা যদি সেই সম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন, তবে ওই সম্পদের ন্যায্য বাজারমূল্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

​জরিমানার এই অর্থ যদি করদাতা স্বেচ্ছায় পরিশোধ না করেন, তবে দেশের মাটিতে থাকা তার অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি বা বাজেয়াপ্ত করে তা আদায়ের আইনি ক্ষমতা রয়েছে আয়কর কর্তৃপক্ষের।

​কর দিলেও জরিমানা বাকি!

​জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে থাকা এই অপ্রদর্শিত অর্থের বিপরীতে চলতি বছরের মে মাসে সরকারের কোষাগারে ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছেন শওকত আলী চৌধুরী। তবে কর পরিশোধ করলেও জরিমানার ৩০৭ কোটি টাকা তিনি এখনো পরিশোধ করেননি বলে জানিয়েছেন এলটিইউর কর্মকর্তারা। এই অর্থ আদায়ে এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে।

​কেন আটকে আছে পাচার হওয়া ২৫ মিলিয়ন ডলার?

​বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যুক্তরাজ্যে জব্দ বা শনাক্ত হওয়া শওকত আলীর ২৫ মিলিয়ন ডলার দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি পর্যায়ে জোর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে সেই চেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাজ্যের কঠোর আইনি মারপ্যাঁচে।

​যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) বাংলাদেশকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অর্থ ফেরত দেওয়ার আগে বাংলাদেশকে এটি প্রমাণ করতে হবে যে, এই অর্থটি কেবল বাংলাদেশের আইনেই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের নিজস্ব আইনেও অবৈধভাবে অর্জিত বা পাচারকৃত। এই আইনি জটিলতার কারণেই অর্থ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। আর এই সুযোগেই এনবিআর দেশের মাটিতে করদাতার সম্পদ লক্ষ্য করে জরিমানার এই বড় পদক্ষেপটি গ্রহণ করল।