ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের জানেআলী হাট বাজার: অপরাধীদের অভয়ারণ্য, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

সাঈদুল রহমান সাকিব চট্টগ্রাম :চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন জানেআলী হাট রেলওয়ে স্টেশন বাজার এখন অপরাধীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। গত ৫ আগস্ট রাতে বাজারে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা এবং এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে নৈশপ্রহরীর ওপর হামলার ঘটনায় এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অবহেলার সুযোগে ও স্থানীয় অপরাধী চক্রের একশ্রেণির যোগসাজশে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় এই এলাকায় অপরাধের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ভোর রাতে  হানা ও নৈশপ্রহরীর ওপর হামলা:

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ভোর রাতে চান্দগাঁও থানার আলী হাট বাজারের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে মালামাল লুটের চেষ্টা করলে বাজারের নৈশপ্রহরী বিষয়টি টের পান এবং অন্যদের সহায়তায় চোরদের আটকের চেষ্টা করেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে চোর চক্রের সদস্যরা ওই নৈশপ্রহরীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেন। তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে চারজন চোরকে হাতেনাতে আটক করেন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও ক্ষোভ :

ঘটনার পর স্থানীয়রা চার চোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও রহস্যজনক কারণে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বাকি দুইজনকে আটক করা হয়  বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের এই নমনীয় ভূমিকার কারণে অপরাধীদের মনোবল আরও বেড়ে গেছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় একটি সুসংগঠিত চক্র চুরি ও ছিনতাই এর  মতো অপরাধ চালিয়ে আসছে।

জামিনে বেরিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার হুমকি : এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই চক্রের কোনো সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে উল্টো মামলার বাদী ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালায় এবং জীবননাশের হুমকি দেয়। আইনি প্রক্রিয়ার এই ফাঁকফোকর এবং অপরাধীদের বেপরোয়া আচরণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাতের বেলা দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পরও তাদের মনে অজানা আতঙ্ক কাজ করে।

প্রশাসনের নিরব ভূমিকা ও এলাকাবাসীর দাবি: 

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা দিনের পর দিন ব্যবসা করব নাকি জীবন রক্ষা করব, বুঝতে পারছি না। পুলিশকে বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। অপরাধীরা জামিনে এসে হুমকি দেওয়ায় কেউ আর মুখ খুলতে সাহস পায় না।” আমরা বললে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কে দিবে, মুখ খুললে আমাদের হঠাত এসে ছুরি মেরে মেরে ফেলবে, ব্যবসা করতে পারবো না শান্তিতে, আমরা একপ্রকার অসহায় অবস্থায় আছি, পুলিশের সুদৃষ্টি না থাকা অবদি আৃরা এই অত্যাচার থেকে রেহাই পাবো না।

জানেআলী হাট রেলওয়ে স্টেশন বাজারের এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে অবিলম্বে চান্দগাঁও থানা পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত এই সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং বাজারের নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার করতে হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের জানেআলী হাট বাজার: অপরাধীদের অভয়ারণ্য, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের জানেআলী হাট বাজার: অপরাধীদের অভয়ারণ্য, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ১২:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাঈদুল রহমান সাকিব চট্টগ্রাম :চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন জানেআলী হাট রেলওয়ে স্টেশন বাজার এখন অপরাধীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। গত ৫ আগস্ট রাতে বাজারে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা এবং এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে নৈশপ্রহরীর ওপর হামলার ঘটনায় এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অবহেলার সুযোগে ও স্থানীয় অপরাধী চক্রের একশ্রেণির যোগসাজশে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় এই এলাকায় অপরাধের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ভোর রাতে  হানা ও নৈশপ্রহরীর ওপর হামলা:

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ভোর রাতে চান্দগাঁও থানার আলী হাট বাজারের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে মালামাল লুটের চেষ্টা করলে বাজারের নৈশপ্রহরী বিষয়টি টের পান এবং অন্যদের সহায়তায় চোরদের আটকের চেষ্টা করেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে চোর চক্রের সদস্যরা ওই নৈশপ্রহরীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেন। তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে চারজন চোরকে হাতেনাতে আটক করেন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও ক্ষোভ :

ঘটনার পর স্থানীয়রা চার চোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও রহস্যজনক কারণে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বাকি দুইজনকে আটক করা হয়  বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের এই নমনীয় ভূমিকার কারণে অপরাধীদের মনোবল আরও বেড়ে গেছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় একটি সুসংগঠিত চক্র চুরি ও ছিনতাই এর  মতো অপরাধ চালিয়ে আসছে।

জামিনে বেরিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার হুমকি : এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই চক্রের কোনো সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে উল্টো মামলার বাদী ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালায় এবং জীবননাশের হুমকি দেয়। আইনি প্রক্রিয়ার এই ফাঁকফোকর এবং অপরাধীদের বেপরোয়া আচরণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাতের বেলা দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পরও তাদের মনে অজানা আতঙ্ক কাজ করে।

প্রশাসনের নিরব ভূমিকা ও এলাকাবাসীর দাবি: 

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা দিনের পর দিন ব্যবসা করব নাকি জীবন রক্ষা করব, বুঝতে পারছি না। পুলিশকে বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। অপরাধীরা জামিনে এসে হুমকি দেওয়ায় কেউ আর মুখ খুলতে সাহস পায় না।” আমরা বললে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কে দিবে, মুখ খুললে আমাদের হঠাত এসে ছুরি মেরে মেরে ফেলবে, ব্যবসা করতে পারবো না শান্তিতে, আমরা একপ্রকার অসহায় অবস্থায় আছি, পুলিশের সুদৃষ্টি না থাকা অবদি আৃরা এই অত্যাচার থেকে রেহাই পাবো না।

জানেআলী হাট রেলওয়ে স্টেশন বাজারের এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে অবিলম্বে চান্দগাঁও থানা পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত এই সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং বাজারের নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার করতে হবে।