ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

বন্দরের ইজারা প্রক্রিয়া ব’ন্ধে’র দাবিতে চট্টগ্রামে ম’শা’ল মি’ছি’ল

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে মশাল মিছিল ও গণসমাবেশ করেছে ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন, চট্টগ্রাম’।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের আমতল মোড়ে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে শ্রমিক নেতা ফজলুল কবির মিন্টু, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি টিকলু কুমার দে, যুব ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রুপম কান্তি ধর, সাংস্কৃতিক সংগঠক শিমুল সেন, শ্রমিক নেতা আবু বকর সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন বক্তা বক্তব্য দেন।

বক্তারা শ্রমিক–কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, দেশের কৌশলগত সম্পদ চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। তারা অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনমত উপেক্ষা করে দেশের সম্পদ নিয়ে ‘ছিনিমিনি খেলছে’, যা বন্ধ করতে হবে।

বক্তারা আরও দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বন্দরে ঘাঁটি স্থাপনের কৌশল হিসেবে ইজারা প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করছে বলে তাদের অভিযোগ। তাঁরা বলেন, “বন্দরসহ জাতীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হলে সমগ্র দেশই ঝুঁকির মুখে পড়বে।”

গণসমাবেশে বক্তারা এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি না করার দাবি জানান। বন্দরের নিজস্ব শ্রমিক–কর্মচারীর মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তিগুলো বাতিল করারও আহ্বান জানানো হয়।

তারা সতর্ক করে বলেন, জাতীয় সম্পদ রক্ষার দাবিতে জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে। সরকার দাবি উপেক্ষা করলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মতো আবারও বন্দর রক্ষায় সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসবে।

বক্তারা আগামী বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্কপের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে সফল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি মানা না হলে হরতাল ও অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কর্মসূচি শেষ হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

বন্দরের ইজারা প্রক্রিয়া ব’ন্ধে’র দাবিতে চট্টগ্রামে ম’শা’ল মি’ছি’ল

আপডেট সময় : ০২:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে মশাল মিছিল ও গণসমাবেশ করেছে ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন, চট্টগ্রাম’।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের আমতল মোড়ে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে শ্রমিক নেতা ফজলুল কবির মিন্টু, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি টিকলু কুমার দে, যুব ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রুপম কান্তি ধর, সাংস্কৃতিক সংগঠক শিমুল সেন, শ্রমিক নেতা আবু বকর সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন বক্তা বক্তব্য দেন।

বক্তারা শ্রমিক–কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, দেশের কৌশলগত সম্পদ চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। তারা অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনমত উপেক্ষা করে দেশের সম্পদ নিয়ে ‘ছিনিমিনি খেলছে’, যা বন্ধ করতে হবে।

বক্তারা আরও দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বন্দরে ঘাঁটি স্থাপনের কৌশল হিসেবে ইজারা প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করছে বলে তাদের অভিযোগ। তাঁরা বলেন, “বন্দরসহ জাতীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হলে সমগ্র দেশই ঝুঁকির মুখে পড়বে।”

গণসমাবেশে বক্তারা এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি না করার দাবি জানান। বন্দরের নিজস্ব শ্রমিক–কর্মচারীর মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তিগুলো বাতিল করারও আহ্বান জানানো হয়।

তারা সতর্ক করে বলেন, জাতীয় সম্পদ রক্ষার দাবিতে জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে। সরকার দাবি উপেক্ষা করলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মতো আবারও বন্দর রক্ষায় সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসবে।

বক্তারা আগামী বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্কপের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে সফল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি মানা না হলে হরতাল ও অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কর্মসূচি শেষ হয়।