
আজ ১৪ ডিসেম্বর—শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গভীর শোকের দিন।
১৯৭১ সালের এই দিনে, বিজয়ের ঠিক প্রাক্কালে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস নির্মমভাবে হত্যা করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান— শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী,আইনজীবী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ঢাকার মিরপুরে নির্মিত হয় প্রথম স্মৃতিসৌধ। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ শুরু হয়, যা ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়।
প্রতিবছরের মতো এবারও শোকের আবহে পালিত হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত, ওড়ানো হয়েছে শোকের প্রতীক কালো পতাকা।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো শহীদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
আজ সকাল ৭টা ৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর শহীদ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে স্মৃতিসৌধ।
বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ ক্রোড়পত্র।
এছাড়া দেশজুড়ে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হচ্ছে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের চেতনার দীপশিখা। তাঁদের আত্মত্যাগে মাথা নত করে কৃতজ্ঞ জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের।
নিজস্ব/নিউজ টুডে 

























