ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

আজ মহান বিজয় দিবস: শৌর্য–বীর্যের গৌরবময় ১৬ ডিসেম্বর, দেশজুড়ে নানা আয়োজন

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালির ইতিহাসে শৌর্য, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দিনে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।

দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিজয়োল্লাসে মেতে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ।

বিজয় দিবসের সূচনালগ্নে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখা সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার বাণীতে বলেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় ঐক্য নতুন করে সুদৃঢ় করার দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা রক্ষার অঙ্গীকার নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিদেশি কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

বিজয় দিবসের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাশুটিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার আয়োজন করা হয়েছে। ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষে পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করবেন, যা একটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করবে।

এছাড়া পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনী দেশব্যাপী ব্যান্ড শো আয়োজন করবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারও জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বিকেলে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাবেন। পাশাপাশি দেশজুড়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হবে।
মহান বিজয় দিবস বাঙালির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা ও গৌরবের চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

আজ মহান বিজয় দিবস: শৌর্য–বীর্যের গৌরবময় ১৬ ডিসেম্বর, দেশজুড়ে নানা আয়োজন

আপডেট সময় : ০৫:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালির ইতিহাসে শৌর্য, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দিনে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।

দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিজয়োল্লাসে মেতে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ।

বিজয় দিবসের সূচনালগ্নে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখা সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার বাণীতে বলেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় ঐক্য নতুন করে সুদৃঢ় করার দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা রক্ষার অঙ্গীকার নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিদেশি কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

বিজয় দিবসের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাশুটিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার আয়োজন করা হয়েছে। ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষে পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করবেন, যা একটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করবে।

এছাড়া পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনী দেশব্যাপী ব্যান্ড শো আয়োজন করবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারও জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বিকেলে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাবেন। পাশাপাশি দেশজুড়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হবে।
মহান বিজয় দিবস বাঙালির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা ও গৌরবের চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে।