ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মুক্তি দাবি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার সাংবাদিক আনিস আলমগীরের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে এই আইনের অপব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক রিহ্যাব মাহামুর এক বিবৃতিতে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক সন্দেহে যেভাবে ব্যক্তিদের নিশানা করা হচ্ছে, সাংবাদিক আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার সেই উদ্বেগজনক প্রবণতারই অংশ। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠরোধ না করে অন্তর্বর্তী সরকার ও কর্তৃপক্ষের উচিত নাগরিকদের স্বাধীনভাবে কথা বলার ও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাত ৮টার পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদের করা মামলায় মধ্যরাতে আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সোমবার আদালত আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

সংবাদমাধ্যমের বরাতে অ্যামনেস্টি জানায়, আদালতে আনিস আলমগীর বলেন, তিনি একজন সাংবাদিক হিসেবে দুই দশক ধরে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে আসছেন এবং তার কাজ কারও কাছে মাথা নত করা নয়।

মানবাধিকার সংস্থাটি আরও বলেছে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার। সে অনুযায়ী আনিস আলমগীরকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। অ্যামনেস্টির দাবি, সংশোধনের পর থেকে এই আইন কথিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্য সাংবাদিকরাও রয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে নিবর্তনমূলক আইনের অপব্যবহার বন্ধ এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মুক্তি দাবি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

আপডেট সময় : ০৩:৩২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার সাংবাদিক আনিস আলমগীরের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে এই আইনের অপব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক রিহ্যাব মাহামুর এক বিবৃতিতে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক সন্দেহে যেভাবে ব্যক্তিদের নিশানা করা হচ্ছে, সাংবাদিক আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার সেই উদ্বেগজনক প্রবণতারই অংশ। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠরোধ না করে অন্তর্বর্তী সরকার ও কর্তৃপক্ষের উচিত নাগরিকদের স্বাধীনভাবে কথা বলার ও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাত ৮টার পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদের করা মামলায় মধ্যরাতে আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সোমবার আদালত আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

সংবাদমাধ্যমের বরাতে অ্যামনেস্টি জানায়, আদালতে আনিস আলমগীর বলেন, তিনি একজন সাংবাদিক হিসেবে দুই দশক ধরে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে আসছেন এবং তার কাজ কারও কাছে মাথা নত করা নয়।

মানবাধিকার সংস্থাটি আরও বলেছে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার। সে অনুযায়ী আনিস আলমগীরকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। অ্যামনেস্টির দাবি, সংশোধনের পর থেকে এই আইন কথিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্য সাংবাদিকরাও রয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে নিবর্তনমূলক আইনের অপব্যবহার বন্ধ এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।