ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন’: ওবায়দুল কাদের

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অপর আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে—নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানি। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামের সঙ্গে ফোনালাপে কোটাবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দেন কাদের। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন।’

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ ও ১৫ জুলাই ধারাবাহিক সংবাদ সম্মেলন ও বৈঠকের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়। ১৬ জুলাই ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে ডেকে ছাত্রলীগ নেতাদের অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবার গতি কমানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় রংপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহিংসতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হন।

সব অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৯ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন’: ওবায়দুল কাদের

আপডেট সময় : ০৯:১১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অপর আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে—নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানি। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামের সঙ্গে ফোনালাপে কোটাবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দেন কাদের। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন।’

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ ও ১৫ জুলাই ধারাবাহিক সংবাদ সম্মেলন ও বৈঠকের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়। ১৬ জুলাই ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে ডেকে ছাত্রলীগ নেতাদের অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবার গতি কমানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় রংপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহিংসতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হন।

সব অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৯ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।