ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের পার্কিং স্টে-অর্ডারের আড়ালে বছরের পর বছর দখল: রেল হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব

সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে একতরফাভাবে ফি জমা দিয়ে চট্টগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশনের কার পার্কিং দখলে রেখেছে ‘এস এ করপোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন দরপত্র (টেন্ডার) ঠেকাতে মামলা করে আদালতের স্টে-অর্ডার এনে জায়গাটি দখলে রাখে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বছরের পর বছর বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আইন কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, “পার্কিংয়ের বিষয়টি নিয়ে আদালতের স্টে-অর্ডার রয়েছে। রেলওয়ে আইনজীবী প্যানেলকে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের পূর্ব ও উত্তর পাশের দুটি কার পার্কিং এস এ করপোরেশনের মালিক শাহ আলমকে লিজ দেওয়া হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি নতুন টেন্ডার ঠেকাতে মামলা করেন এবং আদালতের স্টে-অর্ডার এনে জায়গাটি দখলে রাখেন।

২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর কোনো চাহিদাপত্র বা ডিমান্ড নোটিশ ছাড়াই স্বেচ্ছায় দুই বছরের ফি জমা দেন শাহ আলম। অথচ রেলওয়ের নীতিমালায় লিজ নবায়নের কোনো বিধান নেই। এরপর ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ৫ শতাংশ বাড়তি হারে আরও দুই বছরের ফি পরিশোধ করেন। এ ক্ষেত্রেও কোনো নবায়ন বা অনুমোদন ছিল না যা সরাসরি সরকারি নিয়ম ভঙ্গ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ের নথি অনুযায়ী, মহাপরিচালকের নির্দেশে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২০২২ সালের পর থেকে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্টে-অর্ডারের আড়ালে পার্কিংটি কার্যত একক দখলে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অভিযোগ রয়েছে, পার্কিংয়ের বাইরে রেলওয়ের আরও একাধিক স্থাপনা দখলে রেখেছেন শাহ আলম। রাজনৈতিক প্রভাব ও অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে আইস ফ্যাক্টরি রোডে শাহ আমানত মার্কেট, পুরাতন স্টেশনে নূর-ই-হাবীব রেস্টুরেন্ট ও হেরিটেজ বি আর হোটেল, স্টেশন কলোনিতে ডিম কনসোর্টিয়াম প্রকল্পসহ নানা জায়গা নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তিনি। এমনকি রানিং রুম দখল করে সেখানে স্কুল চালুর অভিযোগও রয়েছে।

রেলওয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, নিয়ম মেনে নতুন টেন্ডার হলে রাজস্ব আয় বহুগুণ বাড়ত। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলে রেখেছে।
এ বিষয়ে দ্রুত আইনি নিষ্পত্তি ও নতুন দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের পার্কিং স্টে-অর্ডারের আড়ালে বছরের পর বছর দখল: রেল হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে একতরফাভাবে ফি জমা দিয়ে চট্টগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশনের কার পার্কিং দখলে রেখেছে ‘এস এ করপোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন দরপত্র (টেন্ডার) ঠেকাতে মামলা করে আদালতের স্টে-অর্ডার এনে জায়গাটি দখলে রাখে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বছরের পর বছর বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আইন কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, “পার্কিংয়ের বিষয়টি নিয়ে আদালতের স্টে-অর্ডার রয়েছে। রেলওয়ে আইনজীবী প্যানেলকে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের পূর্ব ও উত্তর পাশের দুটি কার পার্কিং এস এ করপোরেশনের মালিক শাহ আলমকে লিজ দেওয়া হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি নতুন টেন্ডার ঠেকাতে মামলা করেন এবং আদালতের স্টে-অর্ডার এনে জায়গাটি দখলে রাখেন।

২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর কোনো চাহিদাপত্র বা ডিমান্ড নোটিশ ছাড়াই স্বেচ্ছায় দুই বছরের ফি জমা দেন শাহ আলম। অথচ রেলওয়ের নীতিমালায় লিজ নবায়নের কোনো বিধান নেই। এরপর ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ৫ শতাংশ বাড়তি হারে আরও দুই বছরের ফি পরিশোধ করেন। এ ক্ষেত্রেও কোনো নবায়ন বা অনুমোদন ছিল না যা সরাসরি সরকারি নিয়ম ভঙ্গ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ের নথি অনুযায়ী, মহাপরিচালকের নির্দেশে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২০২২ সালের পর থেকে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্টে-অর্ডারের আড়ালে পার্কিংটি কার্যত একক দখলে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অভিযোগ রয়েছে, পার্কিংয়ের বাইরে রেলওয়ের আরও একাধিক স্থাপনা দখলে রেখেছেন শাহ আলম। রাজনৈতিক প্রভাব ও অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে আইস ফ্যাক্টরি রোডে শাহ আমানত মার্কেট, পুরাতন স্টেশনে নূর-ই-হাবীব রেস্টুরেন্ট ও হেরিটেজ বি আর হোটেল, স্টেশন কলোনিতে ডিম কনসোর্টিয়াম প্রকল্পসহ নানা জায়গা নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তিনি। এমনকি রানিং রুম দখল করে সেখানে স্কুল চালুর অভিযোগও রয়েছে।

রেলওয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, নিয়ম মেনে নতুন টেন্ডার হলে রাজস্ব আয় বহুগুণ বাড়ত। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলে রেখেছে।
এ বিষয়ে দ্রুত আইনি নিষ্পত্তি ও নতুন দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।