ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

বেগমগঞ্জে চাঞ্চল্যকর জাকির হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ‘ইয়াবা সুজন’ গ্রেফতার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পিটিয়ে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ ফেলে দেওয়ার আলোচিত জাকির হত্যা মামলার এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম সুজন প্রকাশ ইয়াবা সুজন (২৮)। তিনি সোনাইমুড়ি উপজেলার হীরাপুর গ্রামের হাওলা বাড়ির সুখ মিয়ার ছেলে।

আজ দুপুরে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রেস রিলিজে জানানো হয়, নিহত জাকির হোসেনের মাটির ব্যবসা ছিল। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ব্যবসার নামে জাকিরের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে আসছিল আসামিরা।

ঘটনার দিন গত ১৩ মে ২০২৫ তারিখে জাকির হোসেন বেগমগঞ্জ চৌরাস্তার পশ্চিম পাশে প্রাইম হাসপাতাল সংলগ্ন সুপার স্টার হোটেলে দুপুরের খাবার শেষে বের হলে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে উপর্যুপরি নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়।

পরবর্তীতে জাকিরের লাশ একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বেগমগঞ্জ থানাধীন বাংলাবাজার পলোয়ানপুল সংলগ্ন খালে ফেলে গুম করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি দেখে সিএনজি চালক আনোয়ার হোসেন ও আবুল বাশার বাবু নামে দুইজনকে আটক করে।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জাকির হোসেনের স্ত্রীর মাধ্যমে লাশ সনাক্ত করে। পরে নিহতের স্ত্রী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের গ্রেফতারে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেল আনুমানিক ৫টায় বেগমগঞ্জ থানাধীন চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সুজন ওরফে ইয়াবা সুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

বেগমগঞ্জে চাঞ্চল্যকর জাকির হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ‘ইয়াবা সুজন’ গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৭:৫২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পিটিয়ে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ ফেলে দেওয়ার আলোচিত জাকির হত্যা মামলার এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম সুজন প্রকাশ ইয়াবা সুজন (২৮)। তিনি সোনাইমুড়ি উপজেলার হীরাপুর গ্রামের হাওলা বাড়ির সুখ মিয়ার ছেলে।

আজ দুপুরে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রেস রিলিজে জানানো হয়, নিহত জাকির হোসেনের মাটির ব্যবসা ছিল। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ব্যবসার নামে জাকিরের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে আসছিল আসামিরা।

ঘটনার দিন গত ১৩ মে ২০২৫ তারিখে জাকির হোসেন বেগমগঞ্জ চৌরাস্তার পশ্চিম পাশে প্রাইম হাসপাতাল সংলগ্ন সুপার স্টার হোটেলে দুপুরের খাবার শেষে বের হলে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে উপর্যুপরি নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়।

পরবর্তীতে জাকিরের লাশ একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বেগমগঞ্জ থানাধীন বাংলাবাজার পলোয়ানপুল সংলগ্ন খালে ফেলে গুম করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি দেখে সিএনজি চালক আনোয়ার হোসেন ও আবুল বাশার বাবু নামে দুইজনকে আটক করে।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জাকির হোসেনের স্ত্রীর মাধ্যমে লাশ সনাক্ত করে। পরে নিহতের স্ত্রী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের গ্রেফতারে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেল আনুমানিক ৫টায় বেগমগঞ্জ থানাধীন চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সুজন ওরফে ইয়াবা সুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।