ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

দেশের ৩৫ জেলায় ছড়িয়েছে নিপাহ ভাইরাস, মৃত্যুহার ৭২ শতাংশ

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ। বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, গত ২০২৫ সালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুটি রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এর আগে ২০২৪ সালেও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত পাঁচজনই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ভাইরাসের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলা হয়, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ। বাংলাদেশে সাধারণত শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পানের মাধ্যমে এই সংক্রমণ শুরু হয়। এছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য সুস্থ মানুষের দেহে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এই রোগের কোনো কার্যকর চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে সভায় উল্লেখ করেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ৩৫টি আক্রান্ত জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেনসহ সভায় উপস্থিত বক্তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

নিপাহ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বিশেষজ্ঞরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। তারা জানান, কোনোভাবেই কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না এবং বাদুড় বা পাখির খাওয়া আংশিক ফল গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া যেকোনো ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া এবং নিপাহর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই মরণঘাতী ভাইরাসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

দেশের ৩৫ জেলায় ছড়িয়েছে নিপাহ ভাইরাস, মৃত্যুহার ৭২ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ। বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, গত ২০২৫ সালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুটি রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এর আগে ২০২৪ সালেও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত পাঁচজনই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ভাইরাসের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলা হয়, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ। বাংলাদেশে সাধারণত শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পানের মাধ্যমে এই সংক্রমণ শুরু হয়। এছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য সুস্থ মানুষের দেহে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এই রোগের কোনো কার্যকর চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে সভায় উল্লেখ করেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ৩৫টি আক্রান্ত জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেনসহ সভায় উপস্থিত বক্তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

নিপাহ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বিশেষজ্ঞরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। তারা জানান, কোনোভাবেই কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না এবং বাদুড় বা পাখির খাওয়া আংশিক ফল গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া যেকোনো ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া এবং নিপাহর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই মরণঘাতী ভাইরাসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।