ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘রেড লাইন’ ঘোষণা ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির

ইরানের চলমান গণবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে এই অবস্থান জানানো হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, গত দুই রাত ধরে তথাকথিত সন্ত্রাসীরা সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এ সময় কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন এবং সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে আইআরজিসি ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করছে। সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী জানায়, জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ইরানি রিয়ালের অবমূল্যায়ন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ জনগণ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই দেশব্যাপী বিক্ষোভের সূচনা হয়।

অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। দিন দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকায় বর্তমানে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রায় সব শহরে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। একই সঙ্গে গতকাল দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সাময়িকী টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর গত ১৩ দিনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইরানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারকে সতর্ক করে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। এ পর্যন্ত চারবার এ ধরনের হুমকি দিয়েছেন তিনি।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘রেড লাইন’ ঘোষণা ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির

আপডেট সময় : ০৮:২০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের চলমান গণবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে এই অবস্থান জানানো হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, গত দুই রাত ধরে তথাকথিত সন্ত্রাসীরা সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এ সময় কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন এবং সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে আইআরজিসি ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করছে। সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী জানায়, জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ইরানি রিয়ালের অবমূল্যায়ন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ জনগণ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই দেশব্যাপী বিক্ষোভের সূচনা হয়।

অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। দিন দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকায় বর্তমানে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রায় সব শহরে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। একই সঙ্গে গতকাল দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সাময়িকী টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর গত ১৩ দিনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইরানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারকে সতর্ক করে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। এ পর্যন্ত চারবার এ ধরনের হুমকি দিয়েছেন তিনি।