ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছি, বিক্ষোভ দমনের পর দাবি খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাবি করেছেন যে, দেশজুড়ে চলমান সহিংস বিক্ষোভ দমন করার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়, যাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটে।

তেহরান কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবি করে প্রধান শহরগুলোতে শান্তি ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একাধিক পোস্টে খামেনি এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। তিনি ওয়াশিংটনকে ‘প্রধান অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরানি জাতি এই বড় মাপের রাষ্ট্রদ্রোহী পরিকল্পনা পরাজিত করেছে।

খামেনি সরাসরি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ছিল পরিকল্পিত। অন্যদিকে, রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ইরানের ওপর মার্কিন হামলার একটি আশঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা ঘটেনি। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আটক বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্তে তিনি হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।

তবে খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেবল সহিংসতা থামানোই যথেষ্ট নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ইরান যুদ্ধ চায় না উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছি, বিক্ষোভ দমনের পর দাবি খামেনির

আপডেট সময় : ০৪:০০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাবি করেছেন যে, দেশজুড়ে চলমান সহিংস বিক্ষোভ দমন করার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়, যাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটে।

তেহরান কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবি করে প্রধান শহরগুলোতে শান্তি ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একাধিক পোস্টে খামেনি এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। তিনি ওয়াশিংটনকে ‘প্রধান অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরানি জাতি এই বড় মাপের রাষ্ট্রদ্রোহী পরিকল্পনা পরাজিত করেছে।

খামেনি সরাসরি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ছিল পরিকল্পিত। অন্যদিকে, রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ইরানের ওপর মার্কিন হামলার একটি আশঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা ঘটেনি। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আটক বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্তে তিনি হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।

তবে খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেবল সহিংসতা থামানোই যথেষ্ট নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ইরান যুদ্ধ চায় না উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।