
সাভার এলাকায় গত সাত মাসে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সিরিয়াল কিলার, যে নিজেকে ‘সম্রাট’ বা ‘কিং সম্রাট’ নামে পরিচয় দিত, আসলে তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। সে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, সম্রাট মূলত ভবঘুরে নারীদের টার্গেট করত। সে নিজের পরিচয় গোপন করে শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিভিন্ন পরিত্যক্ত বা নির্জন স্থানে নিয়ে আসত। সম্রাট দাবি করেছে, ওই নারীরা যদি অন্য কারও সাথে লিপ্ত হতো বা অন্য কেউ তাদের সাথে অনৈতিক কাজ করত, তবে সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হত্যা করত। সাভার মডেল থানার ওসি তাকে একজন ‘সাইকোপ্যাথ‘ বা বিকৃত রুচির মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সাভার মডেল থানা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে ঘুরে বেড়াত সম্রাট। গত ১৮ জানুয়ারি (রোববার) সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুটি পোড়া লাশ উদ্ধার করার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ। ফুটেজে সম্রাটকে একটি লাশ সরাতে দেখা গেলে তাকে আটক করা হয়। এরপরই বেরিয়ে আসে একে একে ছয়টি খুনের রোমহর্ষক কাহিনী।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সম্রাট পর্যায়ক্রমে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে: ৪ জুলাই ২০২৪: সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধার (৭৫) লাশ। ২৯ আগস্ট ২০২৫: পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এক অজ্ঞাত যুবকের (৩০) লাশ। ১১ অক্টোবর ২০২৫: একই স্থানে এক অজ্ঞাত নারীর (৩০) লাশ। ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫: আবারও কমিউনিটি সেন্টার থেকে এক পুরুষের (৩৫) লাশ উদ্ধার। ১৮ জানুয়ারি ২০২৬: কমিউনিটি সেন্টারে এক তরুণী (তানিয়া ওরফে সোনিয়া) এবং এক যুবককে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয়।
পুলিশ জানায়, সম্রাট অত্যন্ত চতুর। সে স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মশিউর রহমান খান সম্রাটের নাম ও পরিচয় নিজের বলে প্রচার করত। এমনকি সে বিভিন্ন সময়ে নিজের বাবা-মায়ের ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।
সাভার মডেল থানার সামনে এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত যাতায়াত ছিল সম্রাটের। ডাব বিক্রেতা থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মী—অনেকেই তাকে ভবঘুরে মনে করে চা-সিগারেট বা খাবার কিনে দিতেন। তার হাতে স্মার্টফোন দেখা যেত এবং সে প্রায়ই উচ্চস্বরে গালিগালাজ করত। তবে এই নিরীহদর্শন ভবঘুরেই যে একজন ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার হতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
আসামি সবুজ ওরফে সম্রাট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে। পুলিশ তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা এবং অন্যান্য কোনো সহযোগী আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।
ডেক্স নিউজ/নিউজ টুডে 
























