ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য: যেভাবে র‍্যাব সদস্যকে হত্যা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন র‍্যাব-৭ এর সদস্যরা।

সোমবার বিকেলের এই ঘটনায় র‍্যাবে কর্মরত বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব নিহত হয়েছেন। এ সময় সন্ত্রাসীদের গণপিটুনিতে র‍্যাবের আরও দুই সদস্য এবং একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরের ‘ছিন্নমূল জনপদ’ এলাকাটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে তারা পাহাড়ে আশ্রয় নিত। সোমবার বিকেলে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনসহ কয়েকজন দুর্ধর্ষ অপরাধী একটি কার্যালয় উদ্বোধনের জন্য সেখানে অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ সদস্যের একটি র‍্যাব দল দুটি মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে অভিযানে নামে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেবের নেতৃত্বে র‍্যাবের চার সদস্য ওই কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত প্রায় ১৫০ জনের মাঝখান থেকে সন্ত্রাসী ইয়াছিনসহ দুজনকে হাতকড়া পরাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত জনতা ও সন্ত্রাসীরা র‍্যাব সদস্যদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে বেধড়ক পিটুনি শুরু করে। লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে প্রায় ৩০০ লোক এই হামলায় অংশ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাইরে থাকা র‍্যাব সদস্যরা এগোতে চাইলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আরও লোক জড়ো করা হয় এবং র‍্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

হামলার একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণের স্টাইলে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিজামপুর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে আবারও তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ টিম গিয়ে নিজামপুর থেকে চারজনকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত আব্দুল মোতালেব ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তবে উদ্ধারকৃতদের শরীরে কোনো গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি; সবাই ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছিলেন।

নিহত আব্দুল মোতালেবের বাড়ি কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায়। র‍্যাব-৭ এর গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। বর্তমানে আহত তিনজনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বেগমগঞ্জে শহীদ জিয়ার জন্মবার্ষিকী ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য: যেভাবে র‍্যাব সদস্যকে হত্যা

আপডেট সময় : ০১:২৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন র‍্যাব-৭ এর সদস্যরা।

সোমবার বিকেলের এই ঘটনায় র‍্যাবে কর্মরত বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব নিহত হয়েছেন। এ সময় সন্ত্রাসীদের গণপিটুনিতে র‍্যাবের আরও দুই সদস্য এবং একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরের ‘ছিন্নমূল জনপদ’ এলাকাটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে তারা পাহাড়ে আশ্রয় নিত। সোমবার বিকেলে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনসহ কয়েকজন দুর্ধর্ষ অপরাধী একটি কার্যালয় উদ্বোধনের জন্য সেখানে অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ সদস্যের একটি র‍্যাব দল দুটি মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে অভিযানে নামে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেবের নেতৃত্বে র‍্যাবের চার সদস্য ওই কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত প্রায় ১৫০ জনের মাঝখান থেকে সন্ত্রাসী ইয়াছিনসহ দুজনকে হাতকড়া পরাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত জনতা ও সন্ত্রাসীরা র‍্যাব সদস্যদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে বেধড়ক পিটুনি শুরু করে। লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে প্রায় ৩০০ লোক এই হামলায় অংশ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাইরে থাকা র‍্যাব সদস্যরা এগোতে চাইলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আরও লোক জড়ো করা হয় এবং র‍্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

হামলার একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণের স্টাইলে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিজামপুর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে আবারও তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ টিম গিয়ে নিজামপুর থেকে চারজনকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত আব্দুল মোতালেব ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তবে উদ্ধারকৃতদের শরীরে কোনো গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি; সবাই ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছিলেন।

নিহত আব্দুল মোতালেবের বাড়ি কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায়। র‍্যাব-৭ এর গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। বর্তমানে আহত তিনজনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।