ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিচার শুরু ও পারমাণবিক নিরাপত্তার বৈশ্বিক উদ্বেগ

ইরানে সম্প্রতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন ও হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারীদের সম্পদ জব্দের পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছে তেহরান। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বিদেশি প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে যারা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন, তাদের প্রতি ‘ইসলামী সহানুভূতি’ প্রদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি ও জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই আন্দোলনে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ইরান সরকার এই মৃত্যুর দায় অস্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’কে দায়ী করেছে।

এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪০.৯ কেজি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের কাছাকাছি। সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক ডেভিড অলব্রাইটের মতে, বিশৃঙ্খলার সুযোগে এই পারমাণবিক উপকরণ ভুল হাতে পড়লে বা গোপনে সরিয়ে নেওয়া হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো নাশকতা বা দুর্ঘটনা ঘটলে তার তেজস্ক্রিয়তা ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেশী সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ধেয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘সর্বশক্তি প্রয়োগের’ হুমকি—সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে এক ভয়াবহ সামরিক ও পারমাণবিক সংকটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরকার যদি তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী প্রতীক ‘ফুটবল’

ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিচার শুরু ও পারমাণবিক নিরাপত্তার বৈশ্বিক উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৪:১৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে সম্প্রতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন ও হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারীদের সম্পদ জব্দের পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছে তেহরান। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বিদেশি প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে যারা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন, তাদের প্রতি ‘ইসলামী সহানুভূতি’ প্রদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি ও জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই আন্দোলনে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ইরান সরকার এই মৃত্যুর দায় অস্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’কে দায়ী করেছে।

এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪০.৯ কেজি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের কাছাকাছি। সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক ডেভিড অলব্রাইটের মতে, বিশৃঙ্খলার সুযোগে এই পারমাণবিক উপকরণ ভুল হাতে পড়লে বা গোপনে সরিয়ে নেওয়া হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো নাশকতা বা দুর্ঘটনা ঘটলে তার তেজস্ক্রিয়তা ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেশী সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ধেয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘সর্বশক্তি প্রয়োগের’ হুমকি—সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে এক ভয়াবহ সামরিক ও পারমাণবিক সংকটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরকার যদি তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।