ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২

আমরা না থাকলে তোমরা জার্মান ভাষায় কথা বলতে: ট্রাম্প

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ভাষণে মিত্র দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) না থাকলে এখন তোমরা সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলতে।” বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, তার এই মন্তব্যকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অপমানজনক ও আধিপত্যবাদী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে একই সম্মেলনে ট্রাম্প কিছু ইতিবাচক সংকেতও দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ইউরোপের আটটি দেশের ওপর যে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি ‘চুক্তির কাঠামো’ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ শুল্কও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চল নিয়ে কোনো ধরনের সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে না। তিনি বলেন, অনেকে শক্তি প্রয়োগের আশঙ্কা করলেও তিনি বলপ্রয়োগের বিরোধী। ট্রাম্পের এই আলোচনার দায়িত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অন্যদিকে ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের অর্থনৈতিক বা সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

ট্রাম্পের শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের বড় উত্থান ঘটেছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন ট্রাম্পের সামরিক শক্তি না খাটানোর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম হলেও গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল বিরোধের জায়গাটি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

র‍্যাব সদস্য মোতালেব হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

আমরা না থাকলে তোমরা জার্মান ভাষায় কথা বলতে: ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০২:১০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ভাষণে মিত্র দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) না থাকলে এখন তোমরা সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলতে।” বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, তার এই মন্তব্যকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অপমানজনক ও আধিপত্যবাদী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে একই সম্মেলনে ট্রাম্প কিছু ইতিবাচক সংকেতও দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ইউরোপের আটটি দেশের ওপর যে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি ‘চুক্তির কাঠামো’ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ শুল্কও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চল নিয়ে কোনো ধরনের সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে না। তিনি বলেন, অনেকে শক্তি প্রয়োগের আশঙ্কা করলেও তিনি বলপ্রয়োগের বিরোধী। ট্রাম্পের এই আলোচনার দায়িত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অন্যদিকে ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের অর্থনৈতিক বা সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

ট্রাম্পের শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের বড় উত্থান ঘটেছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন ট্রাম্পের সামরিক শক্তি না খাটানোর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম হলেও গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল বিরোধের জায়গাটি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।