
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম কালুরঘাট ফেরিঘাটের নতুন ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা। গত ৩০ এপ্রিল দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় প্রকাশিত কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা সংক্রান্ত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (Writ Petition No. 5977 of 2026) দায়ের করা হয়।
উক্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ১১ মে, ২০২৬ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বিতর্কিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ (Stay Order) প্রদান করেছেন এবং কেন এই বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। তা জানতে চেয়ে ‘রুল নিশি’ জারি করেছেন। আদালতের এই আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি (Certified Copy) ইতিমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা যায়, কালুরঘাট সেতু নতুনভাবে চালু হওয়ার পর থেকে ফেরিঘাটের সার্বিক পরিস্থিতিতে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। ছোট ও মাঝারি যানবাহনগুলো এখন সরাসরি সেতু ব্যবহার করায় ফেরির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এছাড়া জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়া, গ্যাংওয়ে ও পল্টুনের অবকাঠামোগত ত্রুটি এবং নদী সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ বালু মজুদের কারণে নাব্যতার সংকট তৈরি হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বর্তমান ইজারাদার।
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও জনস্বার্থ এবং বোয়ালখালী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ২৫টিরও বেশি শিল্পকারখানার ভারী যানবাহন, মালামাল পরিবহনকারী ট্রাক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ কোনো দিন ফেরি সেবা বন্ধ রাখেনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ইজারার সমস্ত কিস্তি ও আর্থিক দায়বদ্ধতা যথাসময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাঘারে পরিশোধ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা এবং পরিবর্তিত বাস্তবতার আলোকে বর্তমান ইজারাদার কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ও আইনগত ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি লিখিত আবেদন পেশ করেছেন। আবেদনে বিষয়ে সদয় বিবেচনা ও দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিতকরণ ও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশানুযায়ী প্রকাশিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির পরবর্তী সকল কার্যক্রম অনতিবিলম্বে স্থগিত বা অকার্যকর রাখা।
চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন চৌধুরী সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালতের স্থগিতাদেশের পর নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। এমতাবস্থায়, ইজারাদারের ধারাবাহিক সেবামূলক মানসিকতা, শতভাগ আর্থিক সততা এবং বিশাল লোকসানের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসন যদি ইতিবাচক ও সহানুভূতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা পাবে এবং সাধারণ জনগণের ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
রাকিব উদ্দিন 


























