ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মরিয়া ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবার: নেপথ্যে কারা?

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় অভিযুক্ত আসামি, রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এবং তার পরিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ও এর বিচার প্রক্রিয়াকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। মামলার স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং আন্তর্জাতিক মহল যেমন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও জাতিসংঘে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠিয়ে ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আসামিপক্ষ কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে ফজলে করিমের ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী ও তার মা ব্যারিস্টার রিজুয়ানা ইউসুফের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।

ফজলে করিম চৌধুরী বিগত আড়াই মাস ধরে অসুস্থতার অজুহাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে হাজিরা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। বাংলাদেশ মেডিকেল হসপিটালের চিকিৎসক ডাক্তার ধীমান চৌধুরী আসামি ফজলে করিমকে বিশেষভাবে একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান করেন, যা ব্যবহার করে তিনি এতদিন আদালতে আসা এড়াচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, ডাক্তার ধীমান চৌধুরীর বাড়ি রাউজানে। একই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক খাতিরে এই বিশেষ সুবিধা ও ভুয়া সার্টিফিকেট সে ফজলে করিমকে দিচ্ছে।
বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টিগোচর হলে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আদালতে যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, আসামির আইনজীবীর উপস্থিতিতেই এই মামলার শুনানি চলতে আইনগত কোনো বাধা নেই। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আদেশ দেন যে, আসামিকে সশরীরে আদালতে হাজির করার প্রয়োজন নেই, তার আইনজীবীর উপস্থিতিতেই বিচারকার্য চলবে।
কিন্তু আদালতের এই সুনির্দিষ্ট আদেশের পরদিনই, সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং আদালতের কোনো নির্দেশ ছাড়া ফজলে করিম চৌধুরীকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইবুনাল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়।
যা মিডিয়া কাভারেজ ও আন্তর্জাতিক মহলে ‘সিম্প্যাথি’ পাওয়ার নাটক।

চিফ প্রসিকিউটর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আদালতের কোনো আদেশ ছাড়া ওইদিন আসামিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আনার কোনো আইনগত উদ্দেশ্য বা নির্দেশ ছিল না। শুধুমাত্র মিডিয়া কাভারেজ (গণমাধ্যমের মনোযোগ) পাওয়ার জন্য এবং একটি বিশেষ মহলের কাছ থেকে ‘সিম্প্যাথি’ বা সহানুভূতি আদায়ের লক্ষ্যেই তাকে এভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে, অথচ ওইদিন তার আদালতে আসারই কথা ছিল না।”

এই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ হিসেবে। ট্রাইবুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ ও কলঙ্কিত করতে এই অ্যাম্বুলেন্সের ছবি ও ভিডিওগুলো ভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়া হচ্ছে।

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম দায়িত্ব থাকাকালীন আসামি ফজলে করিম ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয় বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি ট্রাইবুনালের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী (যিনি ফজলে করিমের সাবেক স্ত্রী এবং ফারাজ করিমের মা) অনলাইনে হয়রানির বানোয়াট অভিযোগ তোলেন। তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তার তীব্র প্রতিবাদ না করে উল্টো আসামিপক্ষের সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলেন, যা ট্রাইবুনালের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধ্বংস করার শামিল ছিল। এই অনৈতিক সমঝোতার সুবাদেই চট্টগ্রামে ফজলে করিমের ক্যাডারদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যার অকাট্য প্রমাণ এবং প্রায় ৫০ জনেরও বেশি সাক্ষীর সরাসরি সাক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও ফারাজ করিমের নাম রহস্যজনকভাবে মামলার ওয়ারেন্ট ও প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

এই চক্রান্তের অংশ হিসেবে ফজলে করিমের পরিবার বিতর্কিত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে একাধিক নিউজ ও রিপোর্ট করিয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত করা। ডেভিড বার্গম্যান তার রিপোর্টে ফজলে করিমকে সম্পূর্ণ ‘নিরপরাধ’ দাবী করে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়ায়। উল্লেখ্য, ট্রাইবুনাল সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই ডেভিড বার্গম্যানকে প্রায়শই ট্রাইবুনালে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতে দেখা যেত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাজুল ইসলাম ও বার্গম্যানের এই অতি-ঘনিষ্ঠতা এবং দীর্ঘ আড্ডার সুযোগ নিয়েই পর্দার আড়ালে ফজলে করিমকে বাঁচানোর আন্তর্জাতিক লবিং ও চক্রান্তের রূপরেখা তৈরি হয়েছিল।

তবে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সমস্ত অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধার বিষয়গুলো উনার দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেন এবং শক্ত হাতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণেই মামলাটির স্থবিরতা কেটে যায় এবং বিচারিক কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুত গতিতে অগ্রসর হতে শুরু করে। ফারাজ করিম ও তার মায়ের সাজানো পুরো নীলনকশা বর্তমান প্রসিকিউশনের শক্ত অবস্থানের কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে।

মামলার কার্যক্রম গতিশীল হওয়ার পর বিচার প্রক্রিয়াকে যেকোনো মূল্যে স্থবির ও বাধাগ্রস্ত করতে আসামিপক্ষ এক অভিনব ও কু-পরিকল্পিত চক্রান্তের জাল বোনে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তৎকালীন প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা পিয়াসকে লক্ষ্য করে ফজলে করিম এর পরিবারের পক্ষ থেকে ফাঁদ পাতা হয় এবং তাকে বিভিন্ন উপায়ে বিপুল অর্থ ও সুযোগ-সুবিধার লোভ-লালসা দেখানো হয়। তার পরিবার কর্তৃক পাতা এই প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা আসামিকে খালাস ও জামিন পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি টাকা খুঁজে ফেলেন।

এই ঘুষের লেনদেনের বিষয়টি আসলে মামলার গতিকে সম্পূর্ণ ধীর করে দেওয়ার এবং ট্রাইবুনালকে ভেতর থেকে বিতর্কিত করার একটি গভীর চক্রান্তের অংশ। এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং বা তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে।

তদন্তে তৎকালীন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজার সাথে ফজলে করিমের পরিবারের সদস্যদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সম্পূর্ণ সত্য (জেনুইন) বলে প্রমাণিত হয়। এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগেই, গত ৯ মার্চ সাইমুম রেজা ট্রাইবুনাল থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নথির তথ্য অনুযায়ী, আসামিপক্ষের সুপরিকল্পিত ফাঁদে পা দিয়ে এবং প্রলোভনে অন্ধ হয়ে তিনি জামিন নিশ্চিত করতে আসামিপক্ষের সাথে অন্তত ২৪ বার যোগাযোগ করেছিলেন এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অন্তত ১৪ বার সরাসরি বৈঠক করেছিলেন বলে তাও একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়োগ ও পদোন্নতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘রেকর্ড’, দুই বছরে গতিশীলতায় নতুন উচ্চতা

ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মরিয়া ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবার: নেপথ্যে কারা?

আপডেট সময় : ০৫:৪০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় অভিযুক্ত আসামি, রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এবং তার পরিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ও এর বিচার প্রক্রিয়াকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। মামলার স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং আন্তর্জাতিক মহল যেমন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও জাতিসংঘে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠিয়ে ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আসামিপক্ষ কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে ফজলে করিমের ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী ও তার মা ব্যারিস্টার রিজুয়ানা ইউসুফের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।

ফজলে করিম চৌধুরী বিগত আড়াই মাস ধরে অসুস্থতার অজুহাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে হাজিরা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। বাংলাদেশ মেডিকেল হসপিটালের চিকিৎসক ডাক্তার ধীমান চৌধুরী আসামি ফজলে করিমকে বিশেষভাবে একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান করেন, যা ব্যবহার করে তিনি এতদিন আদালতে আসা এড়াচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, ডাক্তার ধীমান চৌধুরীর বাড়ি রাউজানে। একই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক খাতিরে এই বিশেষ সুবিধা ও ভুয়া সার্টিফিকেট সে ফজলে করিমকে দিচ্ছে।
বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টিগোচর হলে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আদালতে যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, আসামির আইনজীবীর উপস্থিতিতেই এই মামলার শুনানি চলতে আইনগত কোনো বাধা নেই। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আদেশ দেন যে, আসামিকে সশরীরে আদালতে হাজির করার প্রয়োজন নেই, তার আইনজীবীর উপস্থিতিতেই বিচারকার্য চলবে।
কিন্তু আদালতের এই সুনির্দিষ্ট আদেশের পরদিনই, সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং আদালতের কোনো নির্দেশ ছাড়া ফজলে করিম চৌধুরীকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইবুনাল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়।
যা মিডিয়া কাভারেজ ও আন্তর্জাতিক মহলে ‘সিম্প্যাথি’ পাওয়ার নাটক।

চিফ প্রসিকিউটর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আদালতের কোনো আদেশ ছাড়া ওইদিন আসামিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আনার কোনো আইনগত উদ্দেশ্য বা নির্দেশ ছিল না। শুধুমাত্র মিডিয়া কাভারেজ (গণমাধ্যমের মনোযোগ) পাওয়ার জন্য এবং একটি বিশেষ মহলের কাছ থেকে ‘সিম্প্যাথি’ বা সহানুভূতি আদায়ের লক্ষ্যেই তাকে এভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে, অথচ ওইদিন তার আদালতে আসারই কথা ছিল না।”

এই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ হিসেবে। ট্রাইবুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ ও কলঙ্কিত করতে এই অ্যাম্বুলেন্সের ছবি ও ভিডিওগুলো ভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়া হচ্ছে।

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম দায়িত্ব থাকাকালীন আসামি ফজলে করিম ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয় বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি ট্রাইবুনালের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী (যিনি ফজলে করিমের সাবেক স্ত্রী এবং ফারাজ করিমের মা) অনলাইনে হয়রানির বানোয়াট অভিযোগ তোলেন। তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তার তীব্র প্রতিবাদ না করে উল্টো আসামিপক্ষের সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলেন, যা ট্রাইবুনালের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধ্বংস করার শামিল ছিল। এই অনৈতিক সমঝোতার সুবাদেই চট্টগ্রামে ফজলে করিমের ক্যাডারদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যার অকাট্য প্রমাণ এবং প্রায় ৫০ জনেরও বেশি সাক্ষীর সরাসরি সাক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও ফারাজ করিমের নাম রহস্যজনকভাবে মামলার ওয়ারেন্ট ও প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

এই চক্রান্তের অংশ হিসেবে ফজলে করিমের পরিবার বিতর্কিত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে একাধিক নিউজ ও রিপোর্ট করিয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত করা। ডেভিড বার্গম্যান তার রিপোর্টে ফজলে করিমকে সম্পূর্ণ ‘নিরপরাধ’ দাবী করে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়ায়। উল্লেখ্য, ট্রাইবুনাল সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই ডেভিড বার্গম্যানকে প্রায়শই ট্রাইবুনালে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতে দেখা যেত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাজুল ইসলাম ও বার্গম্যানের এই অতি-ঘনিষ্ঠতা এবং দীর্ঘ আড্ডার সুযোগ নিয়েই পর্দার আড়ালে ফজলে করিমকে বাঁচানোর আন্তর্জাতিক লবিং ও চক্রান্তের রূপরেখা তৈরি হয়েছিল।

তবে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সমস্ত অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধার বিষয়গুলো উনার দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেন এবং শক্ত হাতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণেই মামলাটির স্থবিরতা কেটে যায় এবং বিচারিক কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুত গতিতে অগ্রসর হতে শুরু করে। ফারাজ করিম ও তার মায়ের সাজানো পুরো নীলনকশা বর্তমান প্রসিকিউশনের শক্ত অবস্থানের কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে।

মামলার কার্যক্রম গতিশীল হওয়ার পর বিচার প্রক্রিয়াকে যেকোনো মূল্যে স্থবির ও বাধাগ্রস্ত করতে আসামিপক্ষ এক অভিনব ও কু-পরিকল্পিত চক্রান্তের জাল বোনে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তৎকালীন প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা পিয়াসকে লক্ষ্য করে ফজলে করিম এর পরিবারের পক্ষ থেকে ফাঁদ পাতা হয় এবং তাকে বিভিন্ন উপায়ে বিপুল অর্থ ও সুযোগ-সুবিধার লোভ-লালসা দেখানো হয়। তার পরিবার কর্তৃক পাতা এই প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা আসামিকে খালাস ও জামিন পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি টাকা খুঁজে ফেলেন।

এই ঘুষের লেনদেনের বিষয়টি আসলে মামলার গতিকে সম্পূর্ণ ধীর করে দেওয়ার এবং ট্রাইবুনালকে ভেতর থেকে বিতর্কিত করার একটি গভীর চক্রান্তের অংশ। এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং বা তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে।

তদন্তে তৎকালীন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজার সাথে ফজলে করিমের পরিবারের সদস্যদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সম্পূর্ণ সত্য (জেনুইন) বলে প্রমাণিত হয়। এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগেই, গত ৯ মার্চ সাইমুম রেজা ট্রাইবুনাল থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নথির তথ্য অনুযায়ী, আসামিপক্ষের সুপরিকল্পিত ফাঁদে পা দিয়ে এবং প্রলোভনে অন্ধ হয়ে তিনি জামিন নিশ্চিত করতে আসামিপক্ষের সাথে অন্তত ২৪ বার যোগাযোগ করেছিলেন এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অন্তত ১৪ বার সরাসরি বৈঠক করেছিলেন বলে তাও একাধিক অভিযোগ উঠেছে।