ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

পানিবন্দি মানুষের দোরগোড়ায় উপহার সামগ্রী নিয়ে এনসিপি নেতা রাকিবুল

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও এলাকার একাংশ। এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে বেপারি পাড়া, বড় বাড়ি, বোর্ড স্কুল ও নাথ পাড়া এলাকা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবার নিজেদের ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয় বা অন্যের বাড়িতে।

এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি  পানিবন্দি এলাকাগুলোর মানুষের দোরগোড়ায় উপহার সামগ্রী (ত্রাণ) পৌঁছে দেন।

ত্রাণ বিতরণকালে রাকিবুল হাসান বলেন, “চান্দগাঁওয়ের এই এলাকাগুলো এখনো পানির নিচে ভাসছে। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার পথ নেই। মানুষ অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। আমি আমার সাধ্যমতো পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য আরও ব্যাপক ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন। আমি বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এসব এলাকায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি আরো বলেন, এলাকাগুলো নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নামার কোনো পথ নেই। দিনের পর দিন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ডুবে থাকায় ঘরবাড়ি, আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে পানিবাহিত নানা রোগ ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

জলাবদ্ধতার এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য স্থানীয়রা অপরিকল্পিত নগরায়ন ও খাল ভরাটকে দায়ী করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও খাল পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এসব এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।
এদিকে, দুর্গম ও পানিবন্দি এসব এলাকায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী না পৌঁছালে এসব এলাকায় মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়োগ ও পদোন্নতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘রেকর্ড’, দুই বছরে গতিশীলতায় নতুন উচ্চতা

পানিবন্দি মানুষের দোরগোড়ায় উপহার সামগ্রী নিয়ে এনসিপি নেতা রাকিবুল

আপডেট সময় : ০১:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও এলাকার একাংশ। এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে বেপারি পাড়া, বড় বাড়ি, বোর্ড স্কুল ও নাথ পাড়া এলাকা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবার নিজেদের ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয় বা অন্যের বাড়িতে।

এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি  পানিবন্দি এলাকাগুলোর মানুষের দোরগোড়ায় উপহার সামগ্রী (ত্রাণ) পৌঁছে দেন।

ত্রাণ বিতরণকালে রাকিবুল হাসান বলেন, “চান্দগাঁওয়ের এই এলাকাগুলো এখনো পানির নিচে ভাসছে। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার পথ নেই। মানুষ অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। আমি আমার সাধ্যমতো পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য আরও ব্যাপক ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন। আমি বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এসব এলাকায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি আরো বলেন, এলাকাগুলো নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নামার কোনো পথ নেই। দিনের পর দিন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ডুবে থাকায় ঘরবাড়ি, আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে পানিবাহিত নানা রোগ ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

জলাবদ্ধতার এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য স্থানীয়রা অপরিকল্পিত নগরায়ন ও খাল ভরাটকে দায়ী করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও খাল পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এসব এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।
এদিকে, দুর্গম ও পানিবন্দি এসব এলাকায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী না পৌঁছালে এসব এলাকায় মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।