তবে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাসিন্দাদের ওপর। তীব্র যানজট, গণপরিবহন সংকট এবং কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।
বুধবার (৭ জুলাই) সকাল থেকেই এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়তে হয়েছে নানা ধরনের ভোগান্তিতে। যথাসময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে তাদের চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে দেখা গেছে।
গণপরিবহন না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবককে বৃষ্টিতে ভিজেই কেন্দ্রের দিকে ছুটতে হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলোতে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। ফলে অফিসগামী মানুষকে বাসের জন্য দীর্ঘ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাচালকেরাও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেছেন। নিরুপায় হয়ে অনেক যাত্রীকে তিন-চার গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে ভিজতে ভিজতে কর্মস্থলে যেতে হয়েছে। আবার অনেক পথচারীকে ছাতা মাথায় কিংবা রেইনকোট গায়ে জড়িয়ে কোনোমতে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
বাংলা মোটর থেকে মিরপুর-১২ নম্বরগামী বাসের যাত্রী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন কাজী বাংলানিউজকে বলেন, এখন তো বৃষ্টি একটু কমেছে। সকালে যখন অফিসে আসছিলাম, তখন অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। একদিকে গাড়ি পাচ্ছিলাম না, অন্যদিকে বৃষ্টি। অনেক কষ্ট করে ভিজে ভিজে অফিসে আসতে হয়েছে। এখনো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। অল্প বেতনের চাকরি করি, ইচ্ছা করলেই সিএনজিতে চলাফেরা করতে পারব না। যত কষ্টই হোক, বাসেই যেতে হবে।
সরেজমিনে রাজধানীর ব্যস্ততম মোড় বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ ও ফার্মগেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তীব্র যানজট ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নিরলস দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।
দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি দুপুরের পর থেকে ডিউটিতে দাঁড়িয়েছি, রাত ১০টা পর্যন্ত থাকতে হবে। ঝড়-বৃষ্টি যাই হোক না কেন, আমাদের দায়িত্ব পালন করতেই হবে। বৃষ্টির ভয়ে আমরা যদি রাস্তা ছেড়ে দিই, তাহলে যানজট আরও প্রকট হবে। তাই কষ্ট হলেও আমাদের রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। মাথায় ছাতা ধরে, রেইনকোট পরে, আবার অনেক ক্ষেত্রে বৃষ্টিতে ভিজেই যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।
ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ব বলেন, আমার সংসারে পাঁচজন সদস্য। মোটরসাইকেলটিও কিস্তিতে কিনেছি, প্রতিদিন কিস্তি দিতে হয়। কিস্তির টাকা দেওয়ার পর যা আয় হয়, তাই দিয়ে সংসার চলে। গতকাল বৃষ্টির কারণে তেমন আয় করতে পারিনি। আজও সকাল থেকে যে টাকা আয় করেছি, তা দিয়ে পেট্রোল কিনেছি আর দুপুরের খাবার খেয়েছি। এখন বসে আছি, কোনো যাত্রী পাচ্ছি না। আমার মতো শত শত মানুষ মোড়ে মোড়ে বসে আছে। টিপটিপ বৃষ্টি হলে ভিজে যাওয়ার ভয়ে যাত্রীরা মোটরসাইকেলে উঠতে চান না। এভাবে আরও এক-দুই দিন চললে আমাদের মতো দিনমজুর মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে, ঋণের বোঝাও বাড়বে।