ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

শিশুদের লিউকেমিয়া: লক্ষণ, কারণ ও আশার বার্তা

লিউকেমিয়া হলো এক ধরনের রক্তের ক্যান্সার, যেখানে শরীরের হাড়ের মজ্জায় (Bone marrow) তৈরি হওয়া নতুন রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এসব অপরিপক্ব সাদা রক্তকণিকা (WBC) দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে স্বাভাবিক রক্তকোষকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে শরীরে নানা জটিল উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিউকেমিয়া শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার। প্রতিবছর শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ৪ হাজার শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়।

লিউকেমিয়ার নির্দিষ্ট কারণ অনেক সময় জানা যায় না। তবে এটি দুইভাবে প্রকাশ পায় (১) ক্রনিক লিউকেমিয়া: ধীরে ধীরে লক্ষণ দেখা দেয়। (২) অ্যাকিউট লিউকেমিয়া: হঠাৎ ও দ্রুত উপসর্গ প্রকাশ পায়।

প্রাথমিকভাবে অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে এসব লক্ষণ মিশে যেতে পারে। তবে নিম্নের উপসর্গগুলো লিউকেমিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে

১. রক্তপাত ও সহজে দাগ পড়া: ছোটখাটো আঘাত বা নাক থেকে রক্তপাত বেশি হয়। ত্বকে সহজে নীলচে বা লালচে দাগ (পেটিচিয়া) দেখা দিতে পারে। এটি প্লেটলেটের ঘাটতির কারণে হয়।

২. পেট ব্যথা ও খিদে কমে যাওয়া: লিউকেমিয়ার কোষ লিভার, স্প্লিন বা কিডনিতে জমে অঙ্গগুলো বড় করে তোলে, ফলে পেট ব্যথা ও খিদে কমে যায়। অনেকের ওজনও দ্রুত কমে যায়।

৩. শ্বাসকষ্ট ও কাশি: থাইমাস গ্রন্থির আশপাশে কোষ জমে শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। কখনো মুখ বা বুকে ফোলা ভাবও দেখা দেয়।

৪. বারবার সংক্রমণ: লিউকেমিয়ার কোষ ঠিকমতো সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে না, ফলে শিশুরা ঘন ঘন জ্বর, কাশি বা ভাইরাল ইনফেকশনে ভোগে।

৫. লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া: বাহুর নিচে, গলার পাশে, কলারবোনের উপরে বা কোমরের কাছে ফোলা অংশ দেখা দিতে পারে।

৬. হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা: হাড়ের মজ্জায় কোষের অতিবৃদ্ধির কারণে হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে, অনেক শিশু হাঁটতেও কষ্ট পায়।

৭. রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া): লাল রক্তকণিকার ঘাটতির কারণে ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়, শিশুরা দুর্বল ও ক্লান্ত থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

শুধু কিছু লক্ষণ দেখেই লিউকেমিয়া নিশ্চিত করা যায় না এজন্য রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির কারণে শিশুদের লিউকেমিয়া থেকে বেঁচে থাকার হার অনেক বেড়েছে।
সময়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে অনেক শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ জীবন ফিরে পায়। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

শিশুদের লিউকেমিয়া: লক্ষণ, কারণ ও আশার বার্তা

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

লিউকেমিয়া হলো এক ধরনের রক্তের ক্যান্সার, যেখানে শরীরের হাড়ের মজ্জায় (Bone marrow) তৈরি হওয়া নতুন রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এসব অপরিপক্ব সাদা রক্তকণিকা (WBC) দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে স্বাভাবিক রক্তকোষকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে শরীরে নানা জটিল উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিউকেমিয়া শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার। প্রতিবছর শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ৪ হাজার শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়।

লিউকেমিয়ার নির্দিষ্ট কারণ অনেক সময় জানা যায় না। তবে এটি দুইভাবে প্রকাশ পায় (১) ক্রনিক লিউকেমিয়া: ধীরে ধীরে লক্ষণ দেখা দেয়। (২) অ্যাকিউট লিউকেমিয়া: হঠাৎ ও দ্রুত উপসর্গ প্রকাশ পায়।

প্রাথমিকভাবে অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে এসব লক্ষণ মিশে যেতে পারে। তবে নিম্নের উপসর্গগুলো লিউকেমিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে

১. রক্তপাত ও সহজে দাগ পড়া: ছোটখাটো আঘাত বা নাক থেকে রক্তপাত বেশি হয়। ত্বকে সহজে নীলচে বা লালচে দাগ (পেটিচিয়া) দেখা দিতে পারে। এটি প্লেটলেটের ঘাটতির কারণে হয়।

২. পেট ব্যথা ও খিদে কমে যাওয়া: লিউকেমিয়ার কোষ লিভার, স্প্লিন বা কিডনিতে জমে অঙ্গগুলো বড় করে তোলে, ফলে পেট ব্যথা ও খিদে কমে যায়। অনেকের ওজনও দ্রুত কমে যায়।

৩. শ্বাসকষ্ট ও কাশি: থাইমাস গ্রন্থির আশপাশে কোষ জমে শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। কখনো মুখ বা বুকে ফোলা ভাবও দেখা দেয়।

৪. বারবার সংক্রমণ: লিউকেমিয়ার কোষ ঠিকমতো সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে না, ফলে শিশুরা ঘন ঘন জ্বর, কাশি বা ভাইরাল ইনফেকশনে ভোগে।

৫. লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া: বাহুর নিচে, গলার পাশে, কলারবোনের উপরে বা কোমরের কাছে ফোলা অংশ দেখা দিতে পারে।

৬. হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা: হাড়ের মজ্জায় কোষের অতিবৃদ্ধির কারণে হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে, অনেক শিশু হাঁটতেও কষ্ট পায়।

৭. রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া): লাল রক্তকণিকার ঘাটতির কারণে ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়, শিশুরা দুর্বল ও ক্লান্ত থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

শুধু কিছু লক্ষণ দেখেই লিউকেমিয়া নিশ্চিত করা যায় না এজন্য রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির কারণে শিশুদের লিউকেমিয়া থেকে বেঁচে থাকার হার অনেক বেড়েছে।
সময়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে অনেক শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ জীবন ফিরে পায়। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।