ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার: পানি, কিডনির সুস্থতার জন্য অপরিহার্য

দেহের সুস্থতার জন্য কিডনি ভালো থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় আমরা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন অভ্যাস করি, যা সরাসরি কিডনির উপর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনির জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু হলো পানির অভাব। পর্যাপ্ত পানি না খেলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে গেঁটে বাত, কিডনিতে পাথর, এমনকি হার্টের সমস্যাও হতে পারে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে দিনে ঠিক কতটা পানি খাওয়া উচিত এবং কেন তা এত জরুরি, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তে ইউরিক অ্যাসিড থাকা স্বাভাবিক। তবে কিছু খাবার খেলে এর মাত্রা বেড়ে যায়। সাধারণত কিডনি এই অতিরিক্ত অ্যাসিড শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু কখনও কখনও এটি অতিরিক্ত হয়ে গেলে সমস্যা দেখা দেয়, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘হাইপারইউরেসেমিয়া’ নামে পরিচিত।

চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণহীন থাকলে গেঁটে বাত, কিডনিতে স্টোন, এমনকি হার্টের জটিলতা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।

কিডনি ভালো রাখতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ ফ্লুইড থাকলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যায় না এবং কিডনির কার্যক্ষমতাও ঠিক থাকে। পানি হলো শরীরের প্রাকৃতিক ‘ডিটক্সিফায়ার’। এটি রক্তে থাকা অ্যাসিডকে পাতলা করে, যাতে অতিরিক্ত অ্যাসিড সহজেই কিডনির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। কিন্তু পানির অভাব হলে অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং কিডনি ও জোড়ায় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (Chinese Center for Disease Control and Prevention) তথ্য অনুযায়ী, যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি এবং গেঁটে বাতের সমস্যা আছে, তাদের দিনে অন্তত ২০০০–৩০০০ মিলিলিটার (প্রায় ৮–১২ গ্লাস) পানি পান করা উচিত। একইভাবে, ‘দ্য জার্নাল অব নেফ্রোলজি’-তেও বলা হয়েছে যে, পর্যাপ্ত পানি পান করলে ইউরিক অ্যাসিডজনিত কিডনি সমস্যার ঝুঁকি কমে।

চিকিৎসকরা বলছেন, পানির প্রয়োজন ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণভাবে পুরুষদের দিনে ৮–৯ গ্লাস এবং নারীদের ৭–৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। একসঙ্গে সব পানি না খেয়ে সারা দিন অল্প অল্প করে পান করা সবচেয়ে কার্যকর।

দিনের শুরুতে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানি খাওয়া খুবই উপকারী। এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিলে শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয় এবং দিনটি শুরু হয় সতেজভাবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার: পানি, কিডনির সুস্থতার জন্য অপরিহার্য

আপডেট সময় : ০৮:০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

দেহের সুস্থতার জন্য কিডনি ভালো থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় আমরা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন অভ্যাস করি, যা সরাসরি কিডনির উপর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনির জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু হলো পানির অভাব। পর্যাপ্ত পানি না খেলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে গেঁটে বাত, কিডনিতে পাথর, এমনকি হার্টের সমস্যাও হতে পারে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে দিনে ঠিক কতটা পানি খাওয়া উচিত এবং কেন তা এত জরুরি, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তে ইউরিক অ্যাসিড থাকা স্বাভাবিক। তবে কিছু খাবার খেলে এর মাত্রা বেড়ে যায়। সাধারণত কিডনি এই অতিরিক্ত অ্যাসিড শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু কখনও কখনও এটি অতিরিক্ত হয়ে গেলে সমস্যা দেখা দেয়, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘হাইপারইউরেসেমিয়া’ নামে পরিচিত।

চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণহীন থাকলে গেঁটে বাত, কিডনিতে স্টোন, এমনকি হার্টের জটিলতা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।

কিডনি ভালো রাখতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ ফ্লুইড থাকলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যায় না এবং কিডনির কার্যক্ষমতাও ঠিক থাকে। পানি হলো শরীরের প্রাকৃতিক ‘ডিটক্সিফায়ার’। এটি রক্তে থাকা অ্যাসিডকে পাতলা করে, যাতে অতিরিক্ত অ্যাসিড সহজেই কিডনির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। কিন্তু পানির অভাব হলে অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং কিডনি ও জোড়ায় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (Chinese Center for Disease Control and Prevention) তথ্য অনুযায়ী, যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি এবং গেঁটে বাতের সমস্যা আছে, তাদের দিনে অন্তত ২০০০–৩০০০ মিলিলিটার (প্রায় ৮–১২ গ্লাস) পানি পান করা উচিত। একইভাবে, ‘দ্য জার্নাল অব নেফ্রোলজি’-তেও বলা হয়েছে যে, পর্যাপ্ত পানি পান করলে ইউরিক অ্যাসিডজনিত কিডনি সমস্যার ঝুঁকি কমে।

চিকিৎসকরা বলছেন, পানির প্রয়োজন ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণভাবে পুরুষদের দিনে ৮–৯ গ্লাস এবং নারীদের ৭–৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। একসঙ্গে সব পানি না খেয়ে সারা দিন অল্প অল্প করে পান করা সবচেয়ে কার্যকর।

দিনের শুরুতে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানি খাওয়া খুবই উপকারী। এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিলে শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয় এবং দিনটি শুরু হয় সতেজভাবে।