ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ‘অদৃশ্য ক্ষমতা’? অভিযোগের মুখে আরএনবি কর্মকর্তা: আমান উল্লাহ

চট্টগ্রাম রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চীফ ইনস্পেক্টর আমান উল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম–দুর্নীতিসহ ব্যাপক অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র। অবৈধ আয়, স্টেশন এলাকায় অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তিনি চট্টগ্রাম রেলওয়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

বদলি আদেশ স্থগিত, ‘উপরমহলের প্রভাব’ অভিযোগ। সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে আরএনবিতে যোগ দেওয়ার পর আমান উল্লাহ দ্রুতই স্টেশনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। চট্টগ্রাম স্টেশনে দীর্ঘদিন অবস্থান করায় তাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বারবার ‘উপরমহলের প্রভাব’ সেই প্রক্রিয়া থামিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে লাকসামে বদলি করার আদেশ জারি হলে তৎকালীন রেলপথ মন্ত্রণালয়–সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম ফোন করে সেই আদেশ স্থগিত করান বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদেশ বাতিল হয়ে আমান উল্লাহ পুনরায় চট্টগ্রাম জেনারেল শাখায় ফিরে যান।

স্টেশনজুড়ে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ-স্টেশনের টিকিট কালোবাজারি, মাদক স্পট পরিচালনা ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আমান উল্লাহ একটি নিজস্ব ‘বিশেষ দল’ গড়ে তুলেছেন—এমন দাবি করেছে স্টেশন–সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। এসব খাত থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও তাদের।

সূত্রগুলোর দাবি, স্টেশন এলাকায় কোনো অবৈধ কার্যক্রম বা লেনদেন তার অনুমতি ছাড়া ঘটে না। অস্ত্র হাতে পাওয়ার ঘটনাও বিতর্কিত।

গত ৪ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় পুরাতন রেলস্টেশনে হামলায় আহত হন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজ। তাকে উদ্ধার করেন আমান উল্লাহ। পরে আজিজের একটি পিস্তল তার হেফাজতে ছিল বলে দাবি উঠে। পরদিন এসআই আমিরুল ইসলামের মাধ্যমে অস্ত্রটি থানায় জমা দেওয়া হয়। তবে অস্ত্রটি রাতভর কোথায় ছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানায় জমা না দেওয়ার কারণ এখনও পরিষ্কার হয়নি।

হোটেল ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ- রেলস্টেশনের দুটি হোটেলের ‘অবৈধ ব্যবসা’ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ এবং স্টেশন এলাকার মাদক চালান নিয়ন্ত্রণেও আমান উল্লাহর সম্পৃক্ততা রয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

দৈনিক যুগান্তর, ডেইলি স্টারসহ জাতীয় গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আগে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নীরবতা প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কর্মকর্তারা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি- রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম–দুর্নীতির পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব বড় ভূমিকা রাখছে। তাদের দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ‘অদৃশ্য ক্ষমতা’? অভিযোগের মুখে আরএনবি কর্মকর্তা: আমান উল্লাহ

আপডেট সময় : ০৭:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চীফ ইনস্পেক্টর আমান উল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম–দুর্নীতিসহ ব্যাপক অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র। অবৈধ আয়, স্টেশন এলাকায় অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তিনি চট্টগ্রাম রেলওয়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

বদলি আদেশ স্থগিত, ‘উপরমহলের প্রভাব’ অভিযোগ। সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে আরএনবিতে যোগ দেওয়ার পর আমান উল্লাহ দ্রুতই স্টেশনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। চট্টগ্রাম স্টেশনে দীর্ঘদিন অবস্থান করায় তাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বারবার ‘উপরমহলের প্রভাব’ সেই প্রক্রিয়া থামিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে লাকসামে বদলি করার আদেশ জারি হলে তৎকালীন রেলপথ মন্ত্রণালয়–সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম ফোন করে সেই আদেশ স্থগিত করান বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদেশ বাতিল হয়ে আমান উল্লাহ পুনরায় চট্টগ্রাম জেনারেল শাখায় ফিরে যান।

স্টেশনজুড়ে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ-স্টেশনের টিকিট কালোবাজারি, মাদক স্পট পরিচালনা ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আমান উল্লাহ একটি নিজস্ব ‘বিশেষ দল’ গড়ে তুলেছেন—এমন দাবি করেছে স্টেশন–সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। এসব খাত থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও তাদের।

সূত্রগুলোর দাবি, স্টেশন এলাকায় কোনো অবৈধ কার্যক্রম বা লেনদেন তার অনুমতি ছাড়া ঘটে না। অস্ত্র হাতে পাওয়ার ঘটনাও বিতর্কিত।

গত ৪ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় পুরাতন রেলস্টেশনে হামলায় আহত হন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজ। তাকে উদ্ধার করেন আমান উল্লাহ। পরে আজিজের একটি পিস্তল তার হেফাজতে ছিল বলে দাবি উঠে। পরদিন এসআই আমিরুল ইসলামের মাধ্যমে অস্ত্রটি থানায় জমা দেওয়া হয়। তবে অস্ত্রটি রাতভর কোথায় ছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানায় জমা না দেওয়ার কারণ এখনও পরিষ্কার হয়নি।

হোটেল ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ- রেলস্টেশনের দুটি হোটেলের ‘অবৈধ ব্যবসা’ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ এবং স্টেশন এলাকার মাদক চালান নিয়ন্ত্রণেও আমান উল্লাহর সম্পৃক্ততা রয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

দৈনিক যুগান্তর, ডেইলি স্টারসহ জাতীয় গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আগে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নীরবতা প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কর্মকর্তারা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি- রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম–দুর্নীতির পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব বড় ভূমিকা রাখছে। তাদের দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।