
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী কার্যালয়ে টেন্ডার এখন আর দরপত্রের প্রতিযোগিতায় নয়, চলছে খোলা কমিশন দরকষাকষিতে। কাজ পেতে হলে দিতে হবে ‘ফাইভ পার্সেন্ট’ কমিশন- না দিলে আটকে যাবে টেন্ডার, আটকে যাবে বিল। এমনই এক নগ্ন হুমকি ও কমিশন দাবির গোপন ভিডিও এসেছে প্রতিবেদকের হাতে।
ভিডিওতে স্পষ্টভাবে শোনা যায়, পাহাড়তলীর সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-২) মো. শরিফুল ইসলাম এক ঠিকাদারকে বলেন, “সিসিএস স্যার (প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল) ফাইভ পার্সেন্ট করেই নেয়। আপনার আগে যারা কাজ করেছে সবাই দিয়েছে। আপনাকেও দিতে হবে। না দিলে বিল-টেন্ডার দুটোই আটকে যাবে। ফাইভ পার্সেন্ট না দিলে কাজ পাবেন না।”
ভিডিওতে কমিশন না দিলে টেন্ডার ও বিল আটকে রাখার বিষয়টি একাধিকবার জোর দিয়ে বলা হয়েছে। এই কথোপকথন কোনো ইঙ্গিত নয়, সরাসরি কমিশন চাওয়ার স্বীকারোক্তি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।
রেল সূত্রে জানা গেছে, এই কমিশন বাণিজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) বেলাল। আর তার সাথে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সরঞ্জাম শাখা) প্রকৌশলী আল আমিন ও সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-২) মো. শরিফুল ইসলাম মিলে গড়ে তুলেছেন একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারদের টেন্ডার পাইয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রেলপথ মন্ত্রণালয় বহু আগেই এলটিএম (সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার পদ্ধতি) এর মাধ্যমে টেন্ডার দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে বাধ্যতামূলকভাবে সব টেন্ডার ইজিপি পদ্ধতিতে (সরকারের ডিজিটাল ও অনলাইন দরপত্র ব্যবস্থা) করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এর উল্টো চিত্র।
সাধারণ ঠিকাদারদের দাবি, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল নিজের পকেট ভারি করতে নিয়ম-নীতির উপেক্ষা করে এখনো এলটিএম পদ্ধতিতেই টেন্ডার দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি কিছু টেন্ডার ব্যাক ডেট দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ২০২৫ সালেও প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল এলটিএম পদ্ধতিতে মালামাল ক্রয় করেছেন। অথচ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন- এলটিএম নয়, সব টেন্ডার ইজিপির মাধ্যমে করতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে ইজিপি না করে এলটিএমেই ক্রয় কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
রেল সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, “এটা আর নিয়ম ভাঙা নয়, প্রকাশ্য ক্ষমতার অপব্যবহার।”
সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-২) মো. শরিফুল ইসলামকে নিয়েও উঠেছে একাধিক অভিযোগ।
জানা যায়, তিনি নিয়মিত অফিসের বাইরে আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ীদের সাথে বসেন গোপন বৈঠকে। একই সঙ্গে তিনি নিজেও একজন আওয়ামী মতাদর্শী হিসেবে পরিচিত। এসব বৈঠকের মাধ্যমেই টেন্ডার ভাগাভাগি ও কমিশনের অঙ্ক ঠিক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল ও সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-২) মো. শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নিজস্ব/নিউজ টুডে 



























